২৫ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

ধানের চেয়ে কম খরচে ভুট্টার চাষ, মাছের খাবার হিসেবে জনপ্রিয়

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ১৯ এপ্রিল ২০২৫ · ৩ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
ধানের চেয়ে কম খরচে ভুট্টার চাষ, মাছের খাবার হিসেবে জনপ্রিয়

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে ভুট্টার বাম্পার ফলন কৃষকদের মুখে হাসি ফিরিয়েছে। ধানের তুলনায় কম খরচ, ভালো দাম এবং বহুমুখী ব্যবহার—এই তিন কারণে দিন দিন ভুট্টা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। এবার উপজেলায় ১৪৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৫ হেক্টর বেশি।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য খামারিদের ভুট্টার চাহিদা বাড়ায় অনেকেই নিজস্ব প্রয়োজনে ভুট্টা চাষ করছেন এবং অতিরিক্ত ফলন বাজারে বিক্রি করছেন। শিয়ালকাঠি, ছোটবগা ও মাদারতলা এলাকায় সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে। গজালিয়া, ফতেপুর, নাজিরপুরসহ বিভিন্ন বাজারে ভুট্টার সরাসরি বিক্রি হচ্ছে মণ হিসেবে। এক মণ কাঁচা ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকায়।

মাদারতলার কৃষক অ্যাডভোকেট মো. সবুর শেখ বলেন, “গত বছর এক একর জমিতে ভুট্টা চাষ করে এক লাখ টাকা আয় করেছি, এবার দেড় একর জমিতে চাষ করেছি, আশা করছি পৌনে দুই লাখ টাকার মতো বিক্রি হবে।”
একই গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম সিকদার জানান, “গত বছর ৭৪ শতকে ৭৪ হাজার টাকা আয় করেছি, এবার আয় বাড়বে অন্তত ৮০ হাজার টাকা।”

ভুট্টার সব অংশই ব্যবহারযোগ্য—পাতা গোখাদ্য, গাছ জ্বালানি, গাঠ-কাঠ-খোসা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বাজারে তুলনামূলক চাহিদা বেশি থাকায় কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। ভুট্টা তোলার এক মাস আগেই গাছের সবুজ পাতা বিক্রি হচ্ছে খামারিদের কাছে।

প্রতি একর জমিতে ভুট্টা চাষে গড়ে ১৭ হাজার টাকা খরচ হয় এবং শতকে পাওয়া যায় ৩০ কেজি ফলন। কৃষক শাফায়েত হোসেন বলেন, “গত বছর এক লাখ টাকা বিক্রি করেছি, এবার আরও ৭৫ হাজার টাকা বেশি হবে আশা করছি।”

এবার সরকারিভাবে ভুট্টা চাষে প্রণোদনা না থাকলেও উপজেলা পরিষদ থেকে ১২০ জন কৃষককে বীজ সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি সাহা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকাশ বৈরাগী বলেন, “ভুট্টা চাষে সেচের প্রয়োজন কম। গত বছর সাড়ে ৩ কোটি টাকার ভুট্টা বিক্রি হয়েছিল, এবার সেই অঙ্ক ছাড়িয়ে যেতে পারে সাড়ে ৪ কোটি টাকা।”

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।