মানিকছড়িতে বেড়েছে তামাক চাষ, হালদা নিয়ে শঙ্কা
দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদী আবারও চরম হুমকির মুখে। পার্বত্য জেলার মানিকছড়ি এলাকায় নদী তীরবর্তী অঞ্চলে তামাক চাষ বেড়ে যাওয়ায় শঙ্কা প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির পরিদর্শনে দেখা গেছে, পূর্বে যেখানে তামাকচাষ কার্যত শূন্যে নেমে এসেছিল, এখন আবার অন্তত ২০ শতাংশ কৃষক তামাক চাষের দিকে ফিরে যাচ্ছেন।
২০১৬ সালে হালদা নদীতে মা মাছ ডিম না ছাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল এই তামাক চাষ। এরপর বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইডিএফ ও পিকেএসএফের সহায়তায় নদী সংলগ্ন এলাকায় তামাক চাষ বন্ধে ব্যাপক উদ্যোগ নেয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি। তাদের চেষ্টায় ২০২১–২০২২ সালের মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশ তামাকচাষিকে মূল ধারার কৃষিতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
তবে হালদা রক্ষা কার্যক্রমের এই অগ্রগতি ধাক্কা খেতে শুরু করে ২০২৩ সাল থেকে। গবেষকরা জানান, তামাক কোম্পানিগুলো একযোগে কৃষকদের চুক্তিভিত্তিক লোভনীয় অফার ও চার গুণ বেশি প্রণোদনা দিয়ে আবারও তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করছে। এর ফলে হালদার তীরে তামাকের সবুজ জমি ফিরে আসতে শুরু করেছে—যা হালদার মাছের প্রজননের জন্য অশনি সংকেত।
হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, “তামাক চাষ শুধু মাটি ও পানি দূষণ করে না, এতে ব্যবহৃত কীটনাশক ও রাসায়নিক পদার্থ নদীতে গিয়ে মাছের প্রজনন ব্যাহত করে। এটি প্রমাণিত যে ২০১৬ সালে ব্রুড মাছ ডিম ছাড়েনি মানিকছড়ি অঞ্চলের তামাক চাষের কারণেই।”
তিনি আরও জানান, হালদা নদীর হেরিটেজ গেজেটে তামাক চাষ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশোধনী আনা প্রয়োজন। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে হালদার মতো বিশ্বমানের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হালদাকে রক্ষা করতে হলে তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ, স্থানীয় জনগণকে সচেতনতা ও বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করাই একমাত্র উপায়। নতুবা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক জলজসম্পদ হালদা হারাবে তার স্বকীয়তা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।