একদিনের মধ্যে ২৫ জেলায় আম পৌঁছে দেবে ডাক বিভাগ
গ্রীষ্মকালীন মৌসুমী ফল—বিশেষ করে আম দ্রুততম সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ চালু করেছে বিশেষ পরিবহন সুবিধা। এ উদ্যোগের ফলে দেশের ২৫টি জেলায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এবং আরও ২১টি জেলায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আম পৌঁছে দেওয়া হবে। মঙ্গলবার ডাক অধিদপ্তরের পরিচালক কবির আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ডাক বিভাগের “স্পিড পোস্ট” সেবার আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ফল প্রেরণকারী কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য সময়োপযোগী একটি সহায়তা হিসেবে কাজ করবে। আম পরিবহনের পাশাপাশি অন্যান্য মৌসুমী ফলও এই সেবার আওতায় পড়বে।
রাজশাহী, ঢাকা, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, জয়পুরহাট এবং কুড়িগ্রাম।
রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালি, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, সিলেট, শেরপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, টাঙ্গাইল, গাজীপুরসহ অন্যান্য জেলা শহর।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, দেশের সব জেলা শহরে (বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও নেত্রকোণা ব্যতীত) স্পিডপোস্টের মাধ্যমে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফল পৌঁছানোর নিশ্চয়তা থাকবে। এছাড়া বাকি জেলার জন্য এই সেবা পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিশ্চিত করা হবে।
এক প্যাকেটে সর্বোচ্চ ৩০ কেজি পর্যন্ত আম বা অন্যান্য ফল পাঠানো যাবে। ডাক মাশুল নির্ধারিত হয়েছে—প্রথম কেজির জন্য ১০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি কেজির জন্য ৫ টাকা হারে। এতে করে কৃষক ও বিক্রেতারা তুলনামূলক কম খরচে সারা দেশে ফল পাঠাতে পারবেন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩ জুন থেকে চালু হওয়া এই ‘স্পিড পোস্ট’ সেবা গ্রাহকদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে নির্ধারিত পোস্ট অফিস উইন্ডো থেকে ডেলিভারির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। গ্রাহককে মোবাইলে পাঠানো মেসেজের ভিত্তিতে পণ্য বুঝে নিতে হয়।
বাংলাদেশ ডাক বিভাগের এই উদ্যোগ দেশের ফল পরিবহন খাতে স্বস্তি এনে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে আমের মৌসুমে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, নওগাঁসহ উৎপাদন এলাকাগুলোর কৃষক ও উদ্যোক্তারা সরাসরি ক্রেতার কাছে ফল পাঠিয়ে লাভবান হতে পারবেন। এতে দামও নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।