২৫ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যার আশঙ্কা, দ্রুত পাকা ধান কাটার নির্দেশ

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ১৬ এপ্রিল ২০২৫ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যার আশঙ্কা, দ্রুত পাকা ধান কাটার নির্দেশ

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরাঞ্চল, বিশেষ করে সুনামগঞ্জ জেলার কৃষকরা এবার আগাম বন্যার শঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় বোরো ধান পাকার মুখে, কিন্তু আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সতর্কবার্তা আশঙ্কা তৈরি করেছে নতুন করে।

সুরমা, কুশিয়ারা, ভৈরব-কুলাউড়া ও মেঘনা-বাউলাই নদী অববাহিকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে নদ-নদীর পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে, যা হাওরাঞ্চলের পাকা বোরো ধানের জন্য মারাত্মক হুমকি হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে হাওর অঞ্চলের কৃষকদের দ্রুততম সময়ে ধান কর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে দেওয়া হয়েছে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা।

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৩৭টি হাওরে বোরো ধান চাষ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০২ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৯৬ হাজার টনের বেশি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে ৮.১ শতাংশ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মোস্তফা ইকবাল আজাদ।

তিনি বলেন, “ধান কাটায় সহায়তার জন্য ১৬০টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার, ১৫টি রিপার ও ৭৩ হাজার শ্রমিক মাঠে কাজ করছে। সব ঠিকঠাক থাকলে আমরা সফলভাবে এই বিপুল ধান কৃষকের ঘরে তুলতে পারব।” ধান কর্তনে কোনো ব্যাঘাত যেন না ঘটে, সেজন্য কৃষি বিভাগ সকল কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করে মাঠে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শ্রমিক ও যন্ত্রপাতির পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করা, মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ধান কাটার প্রস্তুতি নিতে হবে। ধান কর্তনের পর সংরক্ষণের জন্য পলিথিন বা ত্রিপল মজুদ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

বিগত বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এপ্রিলের শেষদিকে আগাম বন্যায় হাওরের পাকা ফসল ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। ফলে এবারও আগেভাগে ধান কাটার উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো মাঠে সক্রিয় রয়েছে, তবে কৃষকদের মধ্যে রয়েছে উৎকণ্ঠা।

এই বিশাল হাওরাঞ্চলে বোরো ধান শুধু খাদ্য নিরাপত্তার জন্য নয়, লক্ষ লক্ষ কৃষকের একমাত্র জীবিকা। তাই আগাম দুর্যোগ মোকাবিলায় সময়মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে সম্ভাব্য ক্ষতির মাত্রা ভয়াবহ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।