২৫ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

চুনারুঘাটের বৈশাখী মেলায় কৃষি পণ্যের সমাহার

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ১৬ এপ্রিল ২০২৫ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
চুনারুঘাটের বৈশাখী মেলায় কৃষি পণ্যের সমাহার

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা, যাকে স্থানীয়ভাবে ‘বান্নি’ নামে ডাকা হয়, মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হয়েছে উপজেলার পীরের বাজার এলাকায়। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই মেলা এক শতাব্দীরও বেশি পুরনো। এবার মেলায় সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি কেড়েছে বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্যের সরব উপস্থিতি।

মেলা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষিজ পণ্যের পাশাপাশি ফলমূল, দেশীয় হাঁড়ি-পাতিল, প্লাস্টিকের পণ্য এবং অন্যান্য গৃহস্থালি সামগ্রীর দোকান বসেছে। স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় করেছেন নিজের প্রয়োজনমতো পণ্য কিনতে। মেলার নিরাপত্তায় টহলরত পুলিশ সদস্যদেরও দেখা গেছে পুরো এলাকা জুড়ে।

এক সময় চুনারুঘাটের এই বৈশাখী মেলা ছিল সিলেট বিভাগের অন্যতম বড় ও বর্ণাঢ্য মেলা। হবিগঞ্জ ছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, এমনকি উত্তরবঙ্গ ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসতেন বিক্রেতারা। কৃষি যন্ত্রপাতি ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামের বড় উৎসব ছিল এই বান্নি। লাঙল, জোয়াল, মই, উইটারসহ মাছ ধরার নানা উপকরণ কিনতেই বছরের প্রথম দিন এই মেলাতেই আসতেন অনেক কৃষক ও মৎস্যজীবী।

তবে সময়ের সাথে সাথে কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ায় ঐতিহ্যবাহী সরঞ্জামের চাহিদা কমে গেছে। সেইসঙ্গে মেলার আশপাশের ফাঁকা জমিগুলোতে বসতি গড়ে উঠায় আয়তনও অনেকটাই সীমিত হয়ে গেছে। ফলে মেলা তার পূর্বের জৌলুস অনেকটাই হারিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় প্রবীণরা।

এই মেলার সূচনার পেছনে রয়েছে ধর্মীয় উৎসবের ইতিহাস। জানা যায়, শত বছর আগে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নববর্ষের প্রথম দিনে ছোট পরিসরে পূজার আয়োজন করতেন। সেই পূজায় আশপাশের এলাকা থেকে বহু ভক্ত সমাগম ঘটাতেন। ধীরে ধীরে সেই ভক্ত সমাগমের জায়গাটি রূপ নেয় মেলায়।

এবারের মেলায় পূজা না থাকলেও বজায় ছিল সেই ঐতিহ্যের রেশ। বিভিন্ন এলাকার মানুষের উপস্থিতি আর বৈচিত্র্যময় পণ্যে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মো. ফরিদুর রহমান বলেন, “এই মেলায় স্থানীয়সহ আশপাশের জেলার মানুষ অংশ নেয়। নানা ধরনের পণ্য বিক্রি হয়, যা একসাথে বাজারে সচরাচর দেখা যায় না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।”

 

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।