ইরি চাষে বাড়ছে খরচ
চাঁদপুরের দাউদকান্দিতে চলতি মৌসুমে ইরি ধান চাষে কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে জমিতে পানি সরবরাহ বা সেচ খাতে ব্যয় সবচেয়ে বেশি হয়েছে। কৃষিনির্ভর এই উপজেলার প্রায় প্রতিটি এলাকায় ইরি ধান চাষ হয়। বিআর-৩, বিআর-২৮, বিআর-২৯ জাতের ধান এখানে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়ে থাকে।
ইরি ধান একটি সেচনির্ভর ফসল। ধান রোপণের শুরু থেকে কাটা পর্যন্ত গাছের গোড়ায় পানি ধরে রাখতে হয়। এ কারণে দাউদকান্দির কৃষকেরা শ্যালো ও ডিপ টিউবওয়েলের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে সেচ দেন। স্থানীয়ভাবে চালু থাকা বেশিরভাগ সেচ স্কিমই শ্যালো মেশিননির্ভর। সাধারণত ১৫–৩৫ বিঘা জমি নিয়ে একটি স্কিম গঠন করা হয়। সেই স্কিমের শ্যালো মালিক অন্য কৃষকদের জমিতে পানি দিয়ে সিকি থেকে পাঁচ আনা ফসল অথবা নগদ অর্থ নেন।
এ বছর ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সেচ ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিঘাপ্রতি সেচ খাতে গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ৩০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। যদিও গত মৌসুমে আবহাওয়া মোটামুটি সহনীয় ছিল এবং খরার প্রবণতা কম ছিল, তবে এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না থাকায় সেচের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়েছে।
হাসনাবাদ গ্রামের কৃষক মনু মিয়া বেপারী জানান, “প্রচণ্ড খরা যাচ্ছে। ধান লাগানোর পর থেকে মাসখানেক টানা সেচ দিতে হয়েছে। খরচ বেড়েছে আগের তুলনায় অনেকটাই।”
শ্রীরায়ের চর গ্রামের কৃষক রহমত উল্লাহ বলেন, “চারা লাগানোর পর থেকেই এক ফোঁটা বৃষ্টিও হয়নি। পুরো সময়ই সেচ দিয়ে রাখতে হয়েছে। ফলে ফলন ভালো হলেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।”
সেচ খরচ ছাড়াও রাসায়নিক সারের মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ইরি ধানের আবাদে চাষের শুরুতেই ফসফেট, পটাশ, জিপসামসহ বিভিন্ন সার প্রয়োগ করতে হয়। অনেক কৃষক জানান, উচ্চ দামে এসব সার কিনতে হয়েছে, যা তাদের আর্থিক চাপে ফেলেছে। নিজেরা বীজ সংরক্ষণ করলেও নিম্নমানের বীজে ফলন কিছুটা কমে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, এবার ইরি ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৫০ হেক্টর জমিতে, তবে আবাদ হয়েছে ৩৭০ হেক্টরে। বৃষ্টি না হওয়ায় পুরো জমিতে সেচ দিয়েই পানি সরবরাহ করতে হয়েছে। এ কারণে উৎপাদন খরচ বাড়লেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।