৩৮ ডিগ্রির তাপে চা গাছ ঝলসে যাচ্ছে, বৃষ্টি না হলে সর্বনাশ
প্রচণ্ড খরার কবলে পড়েছে দেশের অন্যতম চা–উৎপাদনকারী এলাকা হবিগঞ্জ। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় জেলার নবীগঞ্জ, বাহুবল, চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলার ২৪টি চা–বাগানে সৃষ্টি হয়েছে চরম পানিসংকট। এতে চা–গাছের শিকড় শুকিয়ে যাচ্ছে, পাতা ঝরে পড়ছে, আর নতুন কুঁড়ি গজাতে পারছে না। এর ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং চা–শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
দেশে মোট ১৬৭টি চা–বাগানের মধ্যে এই ২৪টি বাগানের আয়তন প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর। সাধারণত ফাল্গুন-চৈত্র মাস থেকেই চা–পাতা সংগ্রহের মৌসুম শুরু হয়। এই সময়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে গাছে কচি পাতা ও কুঁড়ি গজায়, যা চা তৈরির জন্য উপযুক্ত। কিন্তু এবারের দৃশ্য একেবারে ভিন্ন। অধিকাংশ বাগানে ভেতরের ছড়াগুলো শুকিয়ে গেছে। বালুকাময় মাটি দ্রুত গরম হয়ে ওঠায় গাছ আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
মাধবপুরের নোয়াপাড়া, সুরমা, চণ্ডী ও দেউন্দি চা–বাগান ঘুরে দেখা গেছে, অনাবৃষ্টির প্রভাবে গাছের পাতা লালচে হয়ে ঝরে পড়ছে। কোথাও কোথাও কৃত্রিমভাবে পানি সেচ দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বিশাল এলাকা হওয়ায় তা অপ্রতুল। শ্রমিকরা জানান, বাগানের পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কূপ বা পাম্প থেকেও পানি তোলা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দৈনন্দিন কাজেও পড়তে হচ্ছে সংকটে।
চা–শ্রমিক পবিত্র কুণ্ড বলেন, “আগে কূপ থেকে পানি দিতাম। এখন তাও পাওয়া যাচ্ছে না। নিজেরাও অনেক দূর থেকে পানি আনছি।” নারী শ্রমিক মিনতি সাঁওতাল বলেন, “বৃষ্টি না থাকায় গাছে নতুন কুঁড়ি আসছে না। পাতা শুকিয়ে পড়ছে।”
চণ্ডী বাগানের ব্যবস্থাপক সেলিমুর রহমান জানান, চা–উৎপাদন একরকম বন্ধ হয়ে গেছে। এমন চলতে থাকলে এবার উৎপাদন প্রায় শূন্যে নেমে আসবে।
বাংলাদেশ চা গবেষণাকেন্দ্র সূত্র জানায়, চা–গাছ সাধারণত ২০–২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ভালো ফলন দেয়। সর্বোচ্চ ২৯ ডিগ্রি পর্যন্ত গাছ সহ্য করতে পারে। এর ওপরে গেলে গাছের ক্লোরোফিল কাজ বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে তাপমাত্রা ৩৮–৩৯ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে, যা চা–গাছের জন্য মারাত্মক।
মাধবপুরের নোয়াপাড়া বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক সোহাগ মাহমুদ বলেন, “আগে ফাল্গুনেই বৃষ্টি হতো। এখন অনেক শিল্পকারখানার কারণে পরিবেশ বদলাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে বাগানের ওপর।”
সুরমা চা–বাগানের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মিলন হোসেন বলেন, “গত বছর এ সময় বাগানজুড়ে সবুজ কুঁড়িতে ভরে থাকত। এবছর শুধু লালচে পাতা ও শুকনো শাখা। উৎপাদন নেই বললেই চলে।”
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস জানায়, গত বছর মার্চে বৃষ্টিপাত ছিল ৪৮ মিলিমিটার, এবছর তা মাত্র ৪ মিলিমিটার। তবে আবহাওয়াবিদ আনিসুর রহমান জানান, শিগগিরই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি ও চা–শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এখন তাকিয়ে আছেন সেই প্রতীক্ষিত বৃষ্টির দিকেই।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।