২৫ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

নালিতাবাড়ীর খরস্রোতা চেল্লাখালী নদী এখন বোরো ফসলের মাঠ

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ১৫ এপ্রিল ২০২৫ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
নালিতাবাড়ীর খরস্রোতা চেল্লাখালী নদী এখন বোরো ফসলের মাঠ

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বুকে বয়ে যাওয়া চেল্লাখালী নদী এখন আর আগের মতো খরস্রোতা নয়। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এই নদীতে পাহাড়ি ঢলের স্রোত থাকে চোখে পড়ার মতো, কিন্তু মৌসুম শেষে তা হারিয়ে যায় নিঃশব্দে। শুষ্ক মৌসুমে এই নদী রূপ নেয় একটুকরো মরা খালে। আর এই সময়ে স্থানীয় কৃষকরা সেই শুকনো নদীর বুকে চাষ করছেন বোরো ধান—যা ইতোমধ্যেই রূপ নিচ্ছে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এই মুহূর্তে নদীর বুকজুড়ে সবুজের সমারোহ। বোরো ধানে ভরে উঠেছে শুকিয়ে যাওয়া চেল্লাখালী নদীর চর। হাইব্রিড আগাম জাতের ধান রোপণের ফলে ধানের শীষ পাকতে শুরু করেছে অনেক জমিতে। কৃষকদের চোখেমুখে এখন সোনালি স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি।

এই নদীর পোড়াগাঁও ইউনিয়নের অংশে অবস্থিত বুরুঙ্গা পোড়াবাড়ি, আন্ধারুপাড়া, বাতকুচি ও পলাশীকুড়া এলাকাজুড়ে প্রায় ১০–১৫ জন প্রান্তিক কৃষক এবারের মৌসুমে ১০–১২ একর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। কৃষকরা জানান, বৃষ্টির পানি জমে থাকা কিংবা ছড়ার স্রোত থাকায় এই জমিগুলোতে পলি পড়ে যায়, ফলে জমি হয়ে ওঠে উর্বর। এর ফলে তেমন সেচ বা সার না দিয়েই ফসল হয় ভালো, খরচও পড়ে খুবই কম।

বাতকুচি গ্রামের কৃষক আয়নাল হক বলেন, “নদীর বুকে চাষ করা অনেক সহজ। এবার ১০ শতাংশ জমিতে ধান আবাদ করেছি। পলি মাটি থাকায় সেচ লাগে না, ফলনও ভালো হচ্ছে। আশা করছি পাহাড়ি ঢল আসার আগেই ফসল ঘরে তুলতে পারব।”

আন্ধারুপাড়া গ্রামের কৃষক মোজাফফর আলী বলেন, “নদীর জমিগুলো সমান নয় বলে ছোট ছোট প্লটে জমি তৈরি করে চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ২০–২৫ মণ ধান পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এতে আমরা লাভবান হচ্ছি।”

উল্লেখযোগ্য যে, গত বর্ষা মৌসুমে এই নদীতে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতের কারণে আশপাশের বহু ঘরবাড়ি ভেসে গিয়েছিল। অনেকে বসতভিটা হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়লেও, ধীরে ধীরে তারা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।

নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, “প্রতি বছর নদীতে পানি কমলে কৃষকরা সেই চরে বোরো ধান চাষ করেন। এটি স্থানীয়ভাবে বাড়তি খাদ্য জোগানে ভূমিকা রাখছে। আমরা কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে পাশে আছি।”

নাব্যতা হারানো নদী এখন যেন হয়ে উঠেছে কৃষকের নতুন ভরসা। চেল্লাখালী নদীর শুকনো বুকে গড়ে উঠছে সোনালি সম্ভাবনার এক নতুন ইতিহাস।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।