২৫ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

ধান নয়, চাল কিনছে সরকার—মিলারদের সুবিধা দিতেই পরিকল্পনা?

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ১৫ এপ্রিল ২০২৫ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
ধান নয়, চাল কিনছে সরকার—মিলারদের সুবিধা দিতেই পরিকল্পনা?

চলতি বোরো মৌসুমে দেশে প্রায় ৩ কোটি টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এ থেকে ২ কোটিরও বেশি টন চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকলেও, অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সরকার ধান ও চাল মিলিয়ে মাত্র সাড়ে ১৭ লাখ টন সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছে—যার মধ্যে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা মাত্র সাড়ে ৩ লাখ টন এবং সিদ্ধ চাল ১৪ লাখ টন। এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ৪৩ জন নাগরিক।

এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছেন, এই নীতিগত সিদ্ধান্ত কৃষকের সঙ্গে ‘পরিহাসের’ শামিল। লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়, “এ বছর ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৩ লাখ টন—যেখানে গত বছর ছিল ৬ লাখ টন। এর মাধ্যমে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, সরকারের মূল লক্ষ্য চাল কেনা, যা মিলারদের বাণিজ্যিক সুবিধা নিশ্চিত করে। এই সিদ্ধান্ত কৃষকদের জন্য ক্ষতিকর ও অনৈতিক।”

বিবৃতিতে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়:

  • ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা এখনই বাড়িয়ে ১৭ লাখ টনে উন্নীত করতে হবে
  • চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৫ লাখ টনে নামিয়ে আনতে হবে
  • পর্যায়ক্রমে ধান সংগ্রহের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫০ লাখ টনে উন্নীত করতে হবে
  • আগামী অর্থবছরের মধ্যে সরকারি গুদামের ধারণক্ষমতা ২১ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ৫০ লাখ টনে নিতে হবে এবং সমগ্র সংগ্রহ প্রক্রিয়া সংস্কার করতে হবে

তাঁরা ধানের মূল্য বৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানালেও উল্লেখ করেন, এই দর কেবল তখনই কার্যকর হবে যখন সরকার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ধান কিনবে।

প্রতিবাদী বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা, গবেষক মাহা মির্জা, লেখক আলতাফ পারভেজ, পরিবেশকর্মী পাভেল পার্থ ও কল্লোল মোস্তফা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহমুদুল সুমনসহ একাধিক শিক্ষক, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, কৃষি উদ্যোক্তা ও ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

তারা আরও বলেন, কৃষকের ন্যায্য দামে ধান বিক্রির সুযোগ না থাকলে উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হবেন। এতে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। কৃষি ভিত্তিক এই দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এছাড়া স্বাক্ষরকারী নাগরিকদের মধ্যে ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শরৎ চৌধুরী, আইনজীবী নুরে আলম, চলচ্চিত্র নির্মাতা ব্রাত্য আমিন, আকরাম খান, উন্নয়নকর্মী কামরুজ্জামান রিপন, কৃষি উদ্যোক্তা মেহেদী হাসান, এস. এমনাজমুল হাসান, মো. শাহিনুর ইসলাম শাহিন, রাসেল মাহবুব, সোহেল রানা, সাজেদুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।