২৬ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

রাঙ্গুনিয়ায় অনাবাদি জমিতে ভুট্টা চাষে কৃষকের বাজিমাত

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ১৩ এপ্রিল ২০২৫ · ৩ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
রাঙ্গুনিয়ায় অনাবাদি জমিতে ভুট্টা চাষে কৃষকের বাজিমাত

রাঙ্গুনিয়ায় ক্রমেই বাড়ছে ভুট্টা চাষের পরিমাণ। অন্যান্য ফসলের তুলনায় রোগবালাই কম, পরিশ্রমও তুলনামূলক কম—আর ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকরা ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। বিশেষ করে অনাবাদি জমিতে ভুট্টা চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এখানকার অনেক কৃষক।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এ বছর রাঙ্গুনিয়ায় ৫৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদ হয়েছে, যা গেল দুই বছরের তুলনায় বেশি। এ বছর প্রদর্শনী প্লট হিসেবে ১০টি প্লটে ১.১৬ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে, যেখানে সরকারিভাবে বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে।

চন্দ্রঘোনার কৃষক কামাল নূর উদ্দীন জানান, ডিসেম্বরের দিকে বীজ বপনের পর ৭–১০ দিনের মধ্যেই অঙ্কুরোদ্গম হয়। এরপর নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার, সেচ ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়। সাধারণত সাড়ে চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা যায়। বর্তমানে তার জমির গাছে মোচা আসতে শুরু করেছে, আর এপ্রিলের শেষ দিকে ফলন আসবে বলে আশা করছেন তিনি।

মরিয়মনগর ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের কৃষক নূর উদ্দীন এ বছর দেড় হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। তার মতে, হেক্টরপ্রতি ৭০–৮০ হাজার টাকা খরচ হলেও ৫–৬ টন ফলন হতে পারে। বাজারে প্রতি কেজি ভুট্টা ৩০ টাকা দরে বিক্রি হলে এক লাখ ৫০ হাজার থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা আয় হতে পারে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা উত্তম কুমার জানান, বীজ বপনের ১৫–২০ দিন পর থেকে প্রায় ৯০ দিন পর্যন্ত চার দফা সেচ দেওয়া প্রয়োজন হয়। মাঝে মাঝে পাতার দাগ, মোচা বা দানা পঁচা, কাণ্ড পঁচা ও পোকামাকড়ের আক্রমণ হতে পারে, যা ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক প্রয়োগে দমনযোগ্য। সঠিক পরিচর্যায় কম পরিশ্রমে দ্বিগুণ লাভের সম্ভাবনা রয়েছে ভুট্টা চাষে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস বলেন, প্রথমদিকে কৃষকরা আগ্রহ দেখাননি। পরে কৃষি অফিসের উদ্যোগে প্রদর্শনী ও প্রণোদনার মাধ্যমে তাদের ভুট্টা চাষে উৎসাহিত করা হয়। এখন কৃষকরা নিজেরা আগ্রহ নিয়ে চাষ করছেন এবং কৃষি অফিস তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা দিচ্ছে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।