২৬ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

সুগন্ধীর উৎস আগর গাছ চাষ করে সফল বন বিভাগ

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ১১ এপ্রিল ২০২৫ · ৩ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
সুগন্ধীর উৎস আগর গাছ চাষ করে সফল বন বিভাগ

দিনাজপুরের বিরামপুরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চাষ করা হচ্ছে দামী ও সুগন্ধি উৎপাদনকারী গাছ ‘আগর’। বন বিভাগের সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় এই পরীক্ষামূলক আগর চাষ ইতিমধ্যে সাফল্যের মুখ দেখেছে। জেলার খানপুর ইউনিয়নের কালিশহর শালবনে ৪ হেক্টর জায়গাজুড়ে এই চাষ পরিচালনা করছে দিনাজপুর বন বিভাগ।

বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, আগর কাঠ থেকে আতর, পারফিউম, আগরবাতি ও ওষুধ তৈরি হয়। বিশ্বের অনেক দেশে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তিনি বলেন, পরিত্যক্ত জমি, বাড়ির আঙিনা বা রাস্তার পাশে এই গাছ চাষ করা সম্ভব হলেও এটি খুব সংবেদনশীল হওয়ায় পরিচর্যার প্রয়োজন বেশি।

সরেজমিনে দেখা যায়, শাল বা গজারি গাছের মতো সোজা ও উঁচু আকৃতির আগর গাছ এখন শালবনের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে। এর পাতা অনেকটা লিচু পাতার মতো এবং ফুল হয় সাদা রঙের। গাছ পরিপূর্ণ বয়সে পৌঁছালে প্রায় ৬০-৭০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়।

চরকাই ফরেস্ট রেঞ্জের রেঞ্জার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গাছ পরিপক্ব হলে তা কেটে টুকরো করে কিছুদিন পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয় এবং পরে তা বিশেষ চুল্লিতে উত্তপ্ত করে আগর অয়েল সংগ্রহ করা হয়। এই অয়েল দিয়ে আতরসহ বিভিন্ন সুগন্ধি তৈরি হয়। এছাড়া, গাছের কাঠ থেকেও বিশুদ্ধ আগর সংগ্রহ করা সম্ভব।

ফরেস্টার জিয়াউল হক বলেন, বালিভর্তি প্যাকেটে আগর বীজ থেকে চারা উৎপাদন করা হয়। স্বাভাবিকভাবে কাঠ সংগ্রহে ৩০ বছর সময় লাগে, তবে কৃত্রিম উপায়ে ১০ বছরের মধ্যে তা উপযোগী করা যায়। লোহার পেরেক গাছের শরীরে ঢুকিয়ে বিশেষভাবে আগর তৈরির প্রক্রিয়া চালানো হয়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আগর গাছের নিচে মিশ্র ফসল হিসেবে আদা, হলুদ, সুপারি ও কফি চাষ সম্ভব। পুষ্টির জন্য ভার্মি কম্পোস্ট, ইউরিয়া, আইএসপি সার ব্যবহার করা হয়।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল বারী বলেন, আগর প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্রযুক্তির আধুনিকায়নে উদ্যোগ নিলে এই খাত থেকে বিপুল রাজস্ব আসবে এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানও বাড়বে। এতে দেশের অর্থনীতি ও গ্রামীণ জীবনধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।