ভুট্টায় বদলে যাচ্ছে হাওরের কৃষকের জীবন
কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল এখন সোনালি রঙে মোড়ানো—ভরপুর ভুট্টার শস্যে। কয়েক বছরের ব্যবধানে ধান থেকে মুখ ফিরিয়ে ভুট্টা চাষে ঝুঁকেছেন কৃষকেরা। কারণ সহজ—ভুট্টার উৎপাদন খরচ কম, ঝুঁকি কম, লাভ বেশি। আর এবার হয়েছে বাম্পার ফলন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এ বছর জেলায় ১২ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। উৎপাদনের পরিমাণও প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ভুট্টা চাষ হয়েছে নিকলী, মিঠামইন, বাজিতপুর ও অষ্টগ্রামে। এর মধ্যে নিকলী উপজেলায় হয়েছে সর্বোচ্চ—৩,১১০ হেক্টর জমিতে। পাইকাররা ইতোমধ্যেই মাঠ থেকে ভুট্টা কিনছেন মণপ্রতি ১,০০০ থেকে ১,১০০ টাকা দরে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুর রহিম জানান, “ধানের তুলনায় ভুট্টায় ঝুঁকি অনেক কম। বর্ষার আগেই ফসল ঘরে তোলা যায়, খরচও কম।”
অন্য কৃষক শরিফ উদ্দিন বলেন, “আগে জমিগুলো পড়ে থাকত, এখন সেখানে ভুট্টা চাষ করছি। ফলন ভালো হয়েছে। বাজার দর ঠিক থাকলে লাভ হবেই।”
ইটনা হাওরের কৃষক নাজিম উদ্দিন বলেন, “ভুট্টা তিনভাবে লাভ দেয়—শস্য বিক্রি করে, গরুকে পাতা খাওয়ানো যায়, গাছ শুকিয়ে লাকড়ি হিসেবে ব্যবহার হয়।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাদিকুর রহমান বলেন, “ভুট্টা এখন হাওরের নিরাপদ ফসল হিসেবে জনপ্রিয়। আগাম বন্যা এলে ধান নষ্ট হলেও ভুট্টা আগেই ঘরে তোলা যায়। কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে নিয়মিত প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।”
হাওরের কৃষকেরা বলছেন, ভুট্টা শুধু একটি ফসল নয়, বরং তাদের জীবিকার নতুন আশ্রয়। তবে বাজার ব্যবস্থাপনায় নজর না দিলে লাভের এই সম্ভাবনা টিকবে না বলেও মত দিয়েছেন তারা।
এই সোনালি শস্য এখন কেবল খাদ্য চাহিদা পূরণের হাতিয়ার নয়, বরং হাওরের মানুষের জীবনে সম্ভাবনার নতুন ঠিকানা।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।