পচছে আলু, কেজি মাত্র ২ টাকা! গরুকে খাওয়াচ্ছে চাষিরা
রাজশাহীর তানোরে হিমাগারে স্থান না পেয়ে বস্তাবন্দী করে রাখা আলু এখন পচে যাচ্ছে কৃষকের চোখের সামনেই। কেউ আলু কাটছেন গরুকে খাওয়ানোর জন্য, কেউ মাত্র ২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন স্থানীয় বাজারে। উৎপাদন খরচ যেখানে ২২-২৫ টাকা, সেখানে এই দামে বিক্রি করে কৃষকেরা পড়ে গেছেন চরম লোকসানে।
শনিবার বিকেলে তানোরের রাইতান বড়শো গ্রামে দেখা যায়, বাঁশবাগানের পাশে পচা আলুর স্তূপ। সেখানে রোকেয়া বেগম কাটাকুটি করে ভালো অংশ আলাদা করছেন। সেগুলো সেদ্ধ করে গরুকে খাওয়াবেন। পাশেই কলেজছাত্র নাহিদ ও ফয়সাল লাল বস্তায় দুই টাকা কেজি দরে কিছুটা ভালো মানের আলু তুলছেন। তারা বলেন, ঈদের ছুটিতে বাড়তি আয় করতে এসব আলু খুচরা বাজারে গরুর খাদ্য হিসেবে বিক্রি করবেন।
এদিকে যেসব আলু ট্রাকে উঠছে, সেগুলোর দামও বেশি না—সাড়ে ১২ টাকা কেজি। অথচ কৃষকেরা প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ করেছেন প্রায় দ্বিগুণ।
রাজশাহী কৃষি বিপণন ও সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছর রাজশাহীতে আলু চাষ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে। চাষ হয়েছে প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১০ লাখ ৩০ হাজার টন। গত বছর যা ছিল ৯ লাখ ৪০ হাজার টন। ফলে এ বছর উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় হিমাগারে জায়গা সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।
প্রান্তিক কৃষকেরা বেশি বিপাকে পড়েছেন। বড় কৃষকেরা অগ্রিম বুকিং দিয়ে কিছু আলু হিমাগারে রাখতে পারলেও ছোট চাষিরা তা পারেননি। ফলে তাদের অনেকেই বস্তায় ভরে বাড়ির পাশে, রাস্তার ধারে কিংবা আমবাগানে আলু সংরক্ষণ করেছেন, যা পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
চাষি নওশাদ আলী এ বছর ৭২ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। তিনি ২,৫০০ বস্তা আলু হিমাগারে রাখতে পারলেও বাকি ৯০০ বস্তা জায়গার অভাবে রেখে দিয়েছিলেন বাড়িতে। সেখান থেকে তিনি ১৩৪ বস্তা আলু একেবারেই নষ্ট পেয়েছেন। এখন যা বিক্রি করছেন, তা থেকেও খরচ উঠছে না।
ব্যবসায়ী শামীম হোসেন জানালেন, তিনি সাড়ে ১২ টাকা কেজি দরে আলু কিনে ঢাকার বাইপাইল বাজারে ১৫-১৫.৫ টাকা দরে বিক্রি করেন। কেজিতে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বাদ দিলে লাভ থাকে খুব সামান্য।
এই চিত্র শুধু রাজশাহীর নয়, দেশের আরও অনেক অঞ্চলে একইভাবে আলুচাষিরা আজ দিশেহারা। দাম নেই, সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই, ফলে শ্রম ও খরচ সবই এখন কৃষকের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।