২৬ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

সূর্যমুখী ফুলে ছেয়ে গেছে মাঠ, খুশি চাষিরা

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ১ এপ্রিল ২০২৫ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
সূর্যমুখী ফুলে ছেয়ে গেছে মাঠ, খুশি চাষিরা

পটুয়াখালীতে বাড়ছে সূর্যমুখীর চাষ। বছর ব্যবধানে এবার দ্বিগুণ হয়েছে আবাদি জমির পরিমাণ। সরেজমিনে দেখা যায়, সূর্যমুখী ফুলে ছেয়ে গেছে কৃষকের মাঠ। তুলনামূলক কম পরিশ্রম ও অল্প খরচে বেশি লাভের দেখা পাচ্ছেন বলে জানান চাষিরা। এখন সূর্যমুখী বিক্রির জন্য অপেক্ষা করছেন তারা।

জানা যায়, অনুকূল পরিবেশ ও সময় মতো সেচ-সার দেয়ায় এবার এই তেল ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে পটুয়াখালীতে। প্রতি একর জমিতে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টকা খরচ হলেও ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন কৃষকরা। অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় সূর্যমুখী চাষ করে নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।  

কৃষক সোবাহান মুন্সি বলেন, 
আমার প্রতি একর জমি তৈরিতে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টকা খরচ হলেও প্রতি একর ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।

শিমুল মুধা বলেন, ‘সূর্যমুখী চাষে খরচ কম, লাভ বেশি। পাশাপাশি এ বছর যা চাষ হয়েছে বছরে নিজেদের তেলের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রিও করতে পারব।’

দিন দিন সূর্যমুখী চাষ যেভাবে বাড়তে তাতে পটুয়াখালীর সব পতিতে জমিতে এই ফসল আবাদ করা হবে বলে মনে করছেন কৃষিবিদরা। কৃষি বিভাগ বলছে, সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। শিগগিরই সয়াবিনের বিকল্প ভোজ্যতেলের বড় যোগান দেবে পটুয়াখালী। এ বছর জেলায় ২ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে, যা থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার মেট্রিক টন বীজ মিলবে, যার বাজার মুল্য ৩৫ কোটি টাকা।

পল্লী প্রগতি সমিতির আর এম টিপি প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার কৃষিবিদ মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘অন্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখীতে বেশি লাভ। আর আমরাও সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছি। এই সূর্যমুখী ফুল দিয়ে যেমন তেল বের হয়, তেমনি এর গাছ দিয়ে গো খাদ্য ব্যবহার করা যায়। দিন দিন মানুষ এই সূর্যমুখী চাষের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। আশা করছি, আগামীদিনে সূর্যমুখীর প্রচুর পরিমাণ চাষ হবে। পটুয়াখালী জেলায় কোনো পতিতে জমি থাকবে না।’ 

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, 
পরিবারের তেলের যোগান মিটিয়েও এ তৈলবীজ বিক্রি করতে পারায় খুশি কৃষকরা। সুস্বাস্থ্যের জন্য সূর্যমুখী তেলের ব্যবহারের প্রসার লাভ করছে এবং সূর্যমুখী চাষ করে চাষিরাও লাভবান হচ্ছেন। সূর্যমূখী চাষে কৃষকদের সার্বিকভাবে আমরা সহযোগিতা করে যাচ্ছি।

পটুয়াখালীতে গত বছর এক হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে সূর্যমূখী চাষ হলেও এ বছর হয়েছে ২ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।