দিন দিন কমে যাচ্ছে কাঁঠাল গাছের সংখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল নিয়ে এবার বেশ আশাবাদী টাঙ্গাইলের কৃষকরা। মাঘ পেরিয়ে বসন্তের হাওয়া লেগেছে প্রকৃতিতে, আর তাতেই কাঁঠাল গাছে দেখা মিলছে থোকা থোকা মুচির। রাস্তার পাশে, বাড়ির আঙিনা এমনকি পরিত্যক্ত জায়গায় থাকা গাছগুলোতেও এবার ফলনের ছড়াছড়ি।
ভূঞাপুর উপজেলার কয়েড়া গ্রামের কাঁঠাল চাষি মহর আলী জানালেন,
"গত বছরের তুলনায় এ বছর কাঁঠাল গাছে অনেক বেশি মুচি ধরেছে। প্রতিটি গাছে প্রায় ১০০ থেকে ১২০টি পর্যন্ত মুচি দেখা যাচ্ছে। যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, তাহলে এ বছর বেশ ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি।"
একইভাবে ভারই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ সৈয়দ মাসুদুল হক টুকু বলেন,
"আমার বাড়ির চারপাশে ও রাস্তার পাশে প্রায় ২০-২৩টি পুরনো-নতুন কাঁঠাল গাছ আছে। এবার প্রচুর মুচি ধরেছে। প্রতিদিন সকালে গাছে পানি দিচ্ছি। আশা করি আবহাওয়া ভালো থাকলে তিন ভাগের দুই ভাগ মুচি টিকবে।"
নলুয়া গ্রামের নার্সারি মালিক হাসমত আলী জানালেন,
"আগে কাঁঠাল গাছের চারা বিক্রি বেশ ভালোই হতো, কিন্তু এখন কাঠ জাতীয় গাছের চাহিদা বেশি হওয়ায় মানুষ সেদিকেই ঝুঁকছে। ফলে নার্সারিতে কাঁঠালের চারা উৎপাদনও কমে গেছে।"
তবে তিনি মনে করেন, যদি কৃষি বিভাগ আরও উদ্যোগী হয় এবং চাষিদের উৎসাহিত করা হয়, তাহলে কাঁঠাল চারা রোপণ আবারও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।
টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. দুলাল উদ্দিন জানান,
"জেলার ১২টি উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ৮৮ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে মধুপুর, ঘাটাইল, সখীপুর ও ধনবাড়ী উপজেলায় কাঁঠাল চাষ বেশি হয়। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৭৪ হাজার ৯৮৪ মেট্রিক টন।"
কাঁঠালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও পুষ্টিকর ফলের উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিভাগের সহযোগিতা, কৃষকদের যত্ন এবং আবহাওয়ার অনুকূলতা—এই তিনটি দিকই গুরুত্বপূর্ণ। এবার টাঙ্গাইলে কাঁঠালের আশাব্যঞ্জক ফলন দেখে কৃষকরা যেমন খুশি, তেমনি ভোক্তারাও অপেক্ষা করছেন সুস্বাদু ও রসালো কাঁঠালের স্বাদ পেতে।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।