২৬ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

রমজানেও মিলছে সুস্বাদু কাটিমন আম

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ২০ মার্চ ২০২৫ · ৩ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
রমজানেও মিলছে সুস্বাদু কাটিমন আম

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলে আমের মৌসুম শেষ হলেও এবার রমজান মাসে জমে উঠেছে বারোমাসি কাটিমন আমের বাজার। স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা রুবেল হোসেনের উদ্যোগে চাষ হওয়া এই বিশেষ জাতের আম এখন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

রমজান মাসকে সামনে রেখে পরিকল্পনা করেই তিন বছর আগে ২০ বিঘা জমিতে কাটিমন আমের বাগান গড়ে তোলেন রুবেল হোসেন। তার বাগানে এখন ঝুলছে প্রায় আড়াইশ মণ আম। ইতোমধ্যে তিনি প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে আম বিক্রি শুরু করেছেন।

রুবেল হোসেনের আশা, এবারের মৌসুমে প্রায় ২৫ লাখ টাকার আম বিক্রি হবে এবং সব খরচ বাদে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা লাভ করবেন তিনি।

রুবেল হোসেন বলেন, “আমি ইউটিউবে কাটিমন আমের ভিডিও দেখে উদ্বুদ্ধ হই এবং ২০২১ সাল থেকে এর চাষ শুরু করি। এই জাতের আম ফলন পেতে তিন থেকে চার মাস আগেই পরিকল্পনা করতে হয়। খরচ বাদেও লাভ বেশ ভালোই থাকে।”

তিনি আরও জানান, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকারি ক্রেতারা এসে তার বাগান থেকে আম সংগ্রহ করেন।

নাচোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সলেহ আকরাম বলেন, “কাটিমন জাতের আমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি বছরে দুই-তিনবার ফলন দেয়। কৃষকরা যদি অফ-সিজনে এই আমের ফলন নেন, তাহলে বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। আমের পরিচর্যার খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও অফ-সিজনে কাটিমন আম চাষ বেশ লাভজনক।”

বাগানের পরিচর্যাকারী আব্দুল হামিদ বলেন, “রমজানে যেন আম ভালোভাবে বিক্রি হয়, সেজন্য দুই-তিন মাস আগেই আমরা প্রস্তুতি নিই। নির্দিষ্ট কিছু গাছে মুকুল রেখে বাকিগুলো কেটে দিই। এতে ফলন ঠিক সময়ে আসে।”

স্থানীয় বাসিন্দা সিফাত রানা বলেন, “রমজান মাসে রুবেল ভাইয়ের কাটিমন আম পাওয়া যায়, যা খেতে খুব মিষ্টি ও সুস্বাদু। প্রতি রমজানেই আমরা এই আম কিনে খাই।”

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত বছর জেলায় ৮৭৮ হেক্টর জমিতে কাটিমন আমের চাষ হলেও এবার তা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৭৯২ হেক্টর।

বারোমাসি কাটিমন আম চাষে সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচর্যা করলে কৃষকরা সারা বছরই লাভবান হতে পারেন বলে মনে করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।