২৬ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

হাঁড়িভাঙা আমে ব্যবসায়ীদের আশার আলো

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ২০ মার্চ ২০২৫ · ৩ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
হাঁড়িভাঙা আমে ব্যবসায়ীদের আশার আলো

রংপুরের মিঠাপুকুরে এখন চলছে ব্যস্ততা—গাছে গাছে ফুটেছে হাঁড়িভাঙা আমের মুকুল। বাগান জুড়ে সেই মুকুলের সুবাসে ভরে উঠেছে চারপাশ। আমচাষিরা স্বপ্ন দেখছেন এবার হবে বাম্পার ফলন।

গত বছরের তুলনায় এ বছর আবহাওয়া বেশ অনুকূলে থাকায় চাষিরা আশাবাদী, হাঁড়িভাঙা আমের ফলন হবে উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। বিশেষ করে যেহেতু এই আম ইতোমধ্যেই জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই বাজারে এর চাহিদাও অনেক বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের পদাগঞ্জ এলাকার আম বাগান মালিক লুৎফর রহমান এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ করছেন। কলেজপড়ুয়া ছেলে মতিন মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে এখন দিনরাত বাগানের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের।

লুৎফর রহমান বলেন, “এবার আমের মুকুল বেশ ভালো এসেছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে ফলনও বেশ ভালো হবে বলে আশা করছি। যদি দামও ভালো পাই, তাহলে এবারের মৌসুম আমাদের জন্য বেশ লাভজনক হবে।”

রানীপুকুর এলাকার আরেক আমচাষি মিনজারুল ইসলাম বলেন, “এ বছর মুকুল বেশ ভালো এসেছে। রোগবালাইও কম দেখা যাচ্ছে। সঠিক পরিচর্যা করতে পারলে গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ ফলন হতে পারে বলে আশা করছি।”

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “এ অঞ্চলে বর্তমানে ৬ হাজার ১৮৯ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হচ্ছে। হাঁড়িভাঙা আমের সুনাম এখন দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও পৌঁছেছে। চাষিদের আমরা নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছি যাতে তারা সঠিক পরিচর্যা করতে পারেন।”

তিনি আরও বলেন, “হাঁড়িভাঙা আমের চাহিদা যেহেতু আন্তর্জাতিক বাজারেও তৈরি হয়েছে, তাই আমচাষিদের আরও যত্নশীল হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। এবছর ফলন ভালো হলে তা দেশের ভেতর চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের মৌসুমে রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় হাঁড়িভাঙা আমের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৩৮ হাজার মেট্রিক টন। এই পাঁচ জেলায় দুই হাজার ৫৫৬ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙা আমের গাছ রয়েছে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।