টাঙ্গাইলে সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের
টাঙ্গাইলের ফসলি জমিতে এবার সোনালি রঙের হাসি ছড়াচ্ছে সূর্যমুখী ফুল। কম খরচে ভালো ফলন হওয়ায় সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা। শুধু তেল উৎপাদন নয়, সৌন্দর্যেও মন কেড়েছে সূর্যমুখীর মাঠ। তাই বিকেল হলে ফুলের সৌন্দর্য দেখতে ছুটে আসেন আশপাশের মানুষজন।
সূর্যমুখী দেখতে অনেকটা সূর্যের মতো বলেই এর নাম 'সূর্যমুখী'। সূর্যের দিকে মুখ করে থাকার এ বৈশিষ্ট্য একে আলাদা সৌন্দর্য দেয়। আর সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রজাপতি আর মৌমাছিরাও প্রতিদিন ভিড় জমায় সূর্যমুখীর বাগানে।
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সালাংকা পূর্বপাড়া গ্রামের কৃষক শরিফুল আলম মামুন তার ৩০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। তিনি জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় শুরু করা এই চাষে তিনি বেশ সফল। সূর্যমুখীর ফুল ফোটার পর প্রতিদিন বিকেলে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসেন তার জমি দেখতে। কেউ ছবি তোলেন, কেউ ভিডিও করেন। মামুন বলেন, "মানুষের আনন্দ দেখে আমারও ভালো লাগে। অনেকে আমার দেখাদেখি সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হয়েছেন।"
সালাংকার কৃষক মামুনের মতো আশরাফ আলীও এবার সূর্যমুখী চাষে লাভের আশায় আছেন। তার ৩৩ শতাংশ জমিতে আগে ভুট্টা চাষ হতো। এবার তিনি সূর্যমুখী চাষে সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বেশি জমিতে চাষের পরিকল্পনা করছেন।
সূর্যমুখী শুধু তেল উৎপাদনের জন্যই নয়, এর পুষ্টিগুণও অসাধারণ। এতে রয়েছে ওমেগা-৬ ও ওমেগা-৯, যা মানবদেহের জন্য উপকারী। সূর্যমুখী তেলে ভিটামিন-ই ও ভিটামিন-কে থাকে, যা শরীরের জন্য বেশ প্রয়োজনীয়। সরিষা ও সয়াবিন তেলের তুলনায় সূর্যমুখী তেলে অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড কম থাকায় এটি স্বাস্থ্যকর।
টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় এবার সূর্যমুখীর চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৫০ হেক্টর জমি। তবে অর্জিত হয়েছে ১৮০ হেক্টর জমি। এর মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ৪৫ হেক্টর, বাসাইলে ৩৬, মধুপুরে ২০ এবং অন্যান্য উপজেলায় কিছু পরিমাণ জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে।
টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আশেক পারভেজ জানান, এ বছর ৮০ হেক্টর জমিতে ৬০০ কৃষককে বিনামূল্যে সূর্যমুখীর বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়িয়েছে। গত বছর ৪৪২ মেট্রিক টন সূর্যমুখীর বীজ পাওয়া গেলেও এবার ৪৫০ মেট্রিক টনের বেশি ফলনের আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
টাঙ্গাইলের কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “সূর্যমুখী তেল শুধু সরিষার তুলনায় বেশি পুষ্টিকর নয়, বরং উৎপাদনও তুলনামূলক বেশি হয়। ফলে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে সূর্যমুখী চাষে।”
টাঙ্গাইলের কৃষকরা আশাবাদী, সূর্যমুখী চাষে লাভবান হবেন। তেলের বাজারে অস্থিরতার এই সময়ে সূর্যমুখী চাষ দেশে ভোজ্য তেলের ঘাটতি কিছুটা হলেও পূরণ করতে পারে। তাই আগামী মৌসুমে আরও বড় পরিসরে সূর্যমুখীর মাঠ গড়ে উঠবে বলে আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।