কৃষি ঋণ বিতরণ কমেছে, বেড়েছে আদায়
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের শেষ ছয় মাসে কৃষি ঋণ বিতরণ আগের বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ কমেছে। এ সময় কৃষি ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ২৫৯ কোটি ১১ লাখ টাকা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ কমে যাওয়ায় এ ধস দেখা দেয়। বিশেষ করে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে ঋণ বিতরণে সবচেয়ে বড় পতন ঘটে। তবে নভেম্বর ও ডিসেম্বরে কিছুটা ঋণ বৃদ্ধি পেলেও সামগ্রিকভাবে এ সময়ের ঋণ বিতরণ আগের বছরের তুলনায় কম ছিল।
সরকার চলতি অর্থবছরে কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ২৮ শতাংশ বেশি। এই লক্ষ্যমাত্রার বড় অংশই ছিল বেসরকারি ব্যাংকগুলোর জন্য বরাদ্দ।
তবে নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ব্যাংকগুলো তাদের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৬৭ শতাংশ কম ঋণ বিতরণ করেছে। একইভাবে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণও এক-পঞ্চমাংশ হ্রাস পায়। অন্যদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো তাদের ঋণ বিতরণ সাড়ে সাত শতাংশ কমিয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো অবশ্য কৃষি ঋণ বিতরণে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। তারা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫৯ শতাংশ বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। তবে সামগ্রিক হিসাবে এই বৃদ্ধি মোট কৃষি ঋণ বিতরণের ঘাটতি পুষিয়ে আনতে পারেনি।
ঋণ বিতরণে পতন থাকলেও কৃষি ঋণ আদায়ে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। গত ছয় মাসে তফসিলি ব্যাংকগুলো ১৯ হাজার ১১৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা আদায় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় সাড়ে সাত শতাংশ বেশি।
ঋণ আদায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ৫৬ শতাংশ এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলো ১৬ শতাংশ বেশি ঋণ আদায় করেছে। তবে বিদেশি ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো ঋণ আদায়ে পিছিয়ে পড়েছে, যেখানে তাদের আদায় যথাক্রমে ৫০ ও ১০ শতাংশ কমে গেছে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সর্বোচ্চ তিন হাজার ৭৬৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা ঋণ আদায় হয়, যা জুলাই মাসে ছিল সর্বনিম্ন দুই হাজার ৫৫৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
প্রতিবেদনে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো বকেয়া ঋণের পরিমাণ। গত বছরের তুলনায় তা প্রায় সাড়ে ৪৩ শতাংশ বেড়ে ১১ হাজার ৬০০ কোটি ২৫ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। চলতি অর্থবছরে বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ২১ শতাংশ বকেয়ায় পরিণত হয়েছে, যা আগের বছরের ১৪ দশমিক ৫ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি।
আইএনএম-এর নির্বাহী পরিচালক মুস্তাফা কে মুজেরি মনে করেন, গত বছরের শেষ দিকে বন্যা এবং জুলাই মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতা কৃষি ঋণ আদায়ে বড় প্রভাব ফেলেছে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে না পারায় ঋণ পরিশোধে সমস্যায় পড়েন।
তিনি আরও বলেন, বোরো মৌসুমে কৃষকদের বিপুল ঋণ প্রয়োজন হবে। এসময় ঋণ বিতরণে ব্যাঘাত ঘটলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় বকেয়া ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। তবে বিদেশি ব্যাংকগুলোর বকেয়া ঋণ নেই।
মুস্তাফা কে মুজেরি মনে করেন, এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন, বিশেষত ক্ষুদ্র কৃষকদের ঋণ পেতে আরও সহজতর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।