কৃষি সম্প্রসারণের ডিজিসহ আওয়ামী দোসরদের অপসারণের দাবি
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মহাপরিচালক (ডিজি) ছাইফুল আলমসহ প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত সব আওয়ামী দোসরদের অপসারণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কৃষি) অ্যাসোসিয়েশন। শনিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কৃষি) অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসচিব মো. রেজাউল ইসলাম মুকুল। অন্যদের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ড. শাফায়েত আহমেদ সিদ্দিক, হাসিবুল হাসান, বাসিরুল আলম, আরিফ মাহমুদ, কাজী শফিকুল ইসলাম ও গোলাম মোস্তফা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিন সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়। পরে লিখিত বক্তব্যে রেজাউল ইসলাম মুকুল বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ডিজির অদক্ষতার সুযোগে কৃষি মন্ত্রণালয় নিয়মবহির্ভূতভাবে অধিদপ্তরের প্রস্তাব ছাড়াই খেয়ালখুশি মতো কর্মকর্তাদের বদলি করে চলেছে। এসব বদলির মাধ্যমে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ন্যায় কৃষিবিদদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তাই বর্তমান ডিজিসহ ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগীদের অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আগের দিনও (৪ আগস্ট) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বর্তমান ডিজি মো. ছাইফুল আলম ও বিভিন্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকসহ খামারবাড়ির অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে রাজ্জাক-নাসিম-ওয়াহিদা গংদের নিয়ে ‘শেখ হাসিনাতেই আস্থা’ জানিয়ে খামারবাড়ি চত্বরে রাজনৈতিক মিছিলে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কৃষি) অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসচিব বলেন, বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় ২৯টি প্রকল্প চলমান। গণঅভ্যুত্থানের পর এরমধ্যে মাত্র ৯ থেকে ১০টি প্রকল্পে নতুন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) দেয়া হয়েছে। বাকিগুলোয় এখনও আওয়ামী লীগের দোসররাই বহাল তবিয়তে রয়েছে।
রেজাউল ইসলাম মুকুল অভিযোগ করেন, বিগত ১৫ বছরে প্রতিটি প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে। তাই বর্তমান বাস্তবতায় বাকি প্রকল্পগুলোতেও পরিবর্তন আনতে হবে।
সম্প্রতি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রশীদকে বদলির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমরা এ বদলিতে মর্মাহত হয়েছি। এই পদক্ষেপে আমাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ২০তম বিসিএসের কর্মকর্তা মাহবুবুর রশীদ বিগত আওয়ামী লীগের আমলে বঞ্চিত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ উইং) ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রশীদকে মেহেরপুরের বারাদি হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক পদে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি করে কৃষি মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে তার উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ উইংয়ের উপপরিচালক (আমদানি) মো. মুরাদুল হাসানকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।