মাশরুম চাষে সফল মিরসরাইয়ের আবুল কাশেম
তিন দশক প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর জীবিকা নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছিলেন আবুল কাশেম। নার্সারি ও দোকানদারি করে টিকে থাকার চেষ্টা করেও সফল হননি। হতাশার মাঝেই ২০২২ সালে ইউটিউবে মাশরুম চাষের ভিডিও দেখে আগ্রহী হন তিনি।
পরবর্তীতে 'রিফা মাশরুম প্রজেক্ট'-এর একদিনের প্রশিক্ষণ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১০ দিনের ‘ইমপর্টেন্স অব মাশরুম অ্যান্ড কাল্টিভেশন টেকনিক’ কোর্স করেন। মাত্র ১০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করা তার মাশরুম প্রকল্প এখন ছয় লাখ টাকার মূলধনে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে তার প্রকল্পের আকার ৪৪ ফুট বাই ২৪ ফুট। প্রতিদিন ৫-৭ কেজি মাশরুম উৎপাদন হয়, যা কেজি প্রতি ৩০০ টাকায় বিক্রি করেন। উচ্চ চাহিদার কারণে সরবরাহ কম হওয়ায় আরও উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি। এখন মাসে ১০-১৫ হাজার টাকা আয় করলেও এই অঙ্ক শিগগিরই ৫০ হাজার ছাড়াবে বলে আশা করছেন তিনি।
আবুল কাশেম বলেন, ‘মাশরুম চাষের ভিডিও দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রশিক্ষণ নিই। এরপর কাজটা সহজ হয়ে যায়। এখন বেশ ভালো আয় হচ্ছে। নতুন কেউ আগ্রহী হলে আমি প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করি।’
মিরসরাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় আবুল কাশেম মাশরুম চাষের ঘর, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং পরিবহনের জন্য একটি ভ্যান পেয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘মাশরুম একটি পুষ্টিকর খাবার, যা শরীরের বিভিন্ন রোগের প্রতিকার হিসেবে কাজ করে। কম পুঁজিতে লাভজনক হওয়ায় মাশরুম চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। আগ্রহী উদ্যোক্তাদের জন্য প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দিচ্ছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।’
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।