২৬ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

দেশে উৎপাদিত সয়াবিনের ৮০ শতাংশ আসে যে জেলা থেকে

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ৮ মার্চ ২০২৫ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
দেশে উৎপাদিত সয়াবিনের ৮০ শতাংশ আসে যে জেলা থেকে

লক্ষ্মীপুর জেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এখন শুধুই সয়াবিনের সবুজ সমারোহ। মৃদু বাতাসে দোল খাচ্ছে সয়াবিনের গাঢ় সবুজ পাতা। রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চর বংশী ইউনিয়নের চর কাছিয়া গ্রামে গেলে দেখা যাবে কৃষকদের ব্যস্ততা। জমিতে পরিচর্যা করছেন তারা।

এই ইউনিয়নসহ লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দুই যুগ ধরে সয়াবিনের চাষ হয়ে আসছে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, দেশের মোট সয়াবিন উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে লক্ষ্মীপুর থেকে।

আগে আমন ধান কাটার পর অনেক জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। সেই জমিতেই এখন ব্যাপক হারে সয়াবিনের আবাদ হচ্ছে। লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর লক্ষ্মীপুর জেলায় ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষের লক্ষ্য ছিল, কিন্তু বাস্তবে চাষ হয়েছে ৪৩ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে।

কৃষি কর্মকর্তাদের ধারণা, এবার লক্ষ্মীপুরে অন্তত ৮৪ হাজার মেট্রিক টন সয়াবিন উৎপাদিত হবে। এর বাজারমূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩২০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকা। দেশের বিভিন্ন নামকরা ভোজ্যতেল ও পোলট্রি খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখান থেকেই সয়াবিন সংগ্রহ করে থাকে।

লক্ষ্মীপুরের মাটির গুণাগুণ সয়াবিন চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এখানকার দোআঁশ মাটি একবার লাঙল চালালেই সয়াবিন চাষের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। ধান চাষের তুলনায় এতে সার ও সেচ খরচও কম। এ ছাড়া রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণও খুব বেশি হয় না।

রায়পুরের চর কাছিয়া গ্রামের কৃষক ফারুক গাজী বলেন, "গত বছর এক একর জমিতে সয়াবিন চাষ করেছিলাম। লাভ দেখে এবার দেড় একর জমিতে চাষ করছি। মোট খরচ হবে ২৫ হাজার টাকার মতো। ফলন ভালো হলে ৭০ মণ সয়াবিন পাবো। প্রতি মণ ১,৪০০ টাকা করে বিক্রি করলে ১ লাখ টাকা আয় হবে।”

এলাকার আরেক কৃষক জানান, আগে চরাঞ্চলের অনেক জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। এখন সেই জমিগুলোতেও সয়াবিন আবাদ হচ্ছে।

রায়পুরের হায়দরগঞ্জ বাজারসহ আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে সয়াবিনের জমজমাট ব্যবসা। এখানে ৪৫ থেকে ৫০টি আড়তে পাইকারিভাবে সয়াবিন কেনাবেচা হয়।

বাজারের ব্যবসায়ী সাইজুদ্দিন মোল্লা বলেন, "দেশে উৎপাদিত সয়াবিনের প্রায় ৭০ শতাংশ বেচাকেনা হয় এই বাজারে। এপ্রিল-মে মাসে এখানে ক্রেতাদের ভিড় বেড়ে যায়।”

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দীন ফিরোজ বলেন, "লক্ষ্মীপুরের মাটি সয়াবিন চাষের জন্য খুবই উপযোগী। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাম্পার ফলনের আশা করছি। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষকদের প্রত্যাশা পূরণ হবে।”

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।