কাঁঠালবাড়ী চর থেকে হারিয়ে গেছে চার প্রজাতির ধান
নৌকায় নদী পেরিয়ে কাঁঠালবাড়ীর চরে পৌঁছালে চোখে পড়ে ছোট্ট একটি চায়ের দোকান। সেখানে বসে সাত-আটজন বয়স্ক ব্যক্তি আলাপ করছিলেন। কথায় উঠে আসে চরের কৃষি পরিস্থিতি। তাদের মধ্যে দাদন কাজী (৬০) নামের একজন বলেন, "একেক সময় একেক সমস্যা দেখা দেয়। নদী ভাঙলে দেখা যায় একরকম সমস্যা, এখন দেখা দিচ্ছে অন্য সমস্যা। গত ১০ বছর ধরে এই চরে বালি বাড়ছে। জমিতে এত বালি আগে কখনো দেখিনি। এতে ধান চাষসহ বিভিন্ন কৃষিকাজে বিপদ হচ্ছে।"
দাদন কাজীর মতে, আগে এই অঞ্চলে প্রচুর ধান উৎপাদন হতো। ইরি (বোরো) ধানের পাশাপাশি চাষ করা হতো সোনাদীঘি, কাজলা, লক্ষ্মীদিঘা ও হাইট্টা জাতের ধান। তবে এখন সেই ধান আর চাষ হয় না। অতিরিক্ত বালির কারণে জমিগুলোতে এসব জাত আর টিকছে না।
২০১৫ সালে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হলে নদীশাসন ও পাইলিংয়ের কাজে প্রচুর বালি ব্যবহার করা হয়। সেতু নির্মাণের সময় উত্তোলন করা বালি নদীতে ফেলার ফলে সেই বালির স্তূপ ক্রমে আশপাশের কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়ে। বর্ষার পানি সেই বালিকে ভাসিয়ে জমিতে এনে ফেলায় কৃষির ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এ সমস্যার কার্যকর সমাধান নেওয়া হয়নি। ফলে ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘি, কাজলা, লক্ষ্মীদিঘা ও হাইট্টা জাতের ধান একেবারে বিলুপ্তির পথে।
শিবচর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, কাঁঠালবাড়ীর চরের জমিগুলোতে বালির আধিক্যের কারণে এখন ধান উৎপাদন অনেক কমে গেছে। কৃষকদের উন্নত জাতের ধান চাষে উৎসাহিত করা হলেও ঐতিহ্যবাহী দেশি জাতের ধান আর হচ্ছে না।
কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর ও পূর্ব পাশ দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা নদী প্রতিনিয়ত ভাঙনের শিকার। নদীভাঙনের কারণে এখানে একটি সাপ্তাহিক হাটও হারিয়ে গেছে। বর্ষাকালে চরের অর্ধেক অংশ পানিতে ডুবে যায়, তলিয়ে যায় বসতভিটা।
স্থানীয় রিনা বেগম বলেন, "আমার বাড়িঘর ১০ বছর আগে পানিতে তলিয়ে যায়। এখন আবার চর জেগেছে। সেখানে টিনের ঘর তুলে থাকছি। আগে ধান চাষ করতাম, এখন করি না। কারণ ধান হয় না। আগে ‘হাইট্টা’ নামে এক জাতের ধান হতো, যার ভাত রান্না করলে শুধু পদ্মার পানিতেই দারুণ স্বাদ হতো। এখন সে ধানই আর নেই।"
এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়া বলেন, "বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় পরিবেশের বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজে এই বিষয়টি ঠিকমতো দেখা হয়নি। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি, কীভাবে কৃষকদের সমস্যা সমাধান করা যায়।"
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।