২৭ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

এল নিনোর প্রভাবে কৃষির বিপর্যয়

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ · ৫ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
এল নিনোর প্রভাবে কৃষির বিপর্যয়

প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বেড়ে গেলে আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে, যা এল নিনো নামে পরিচিত। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) ২০২৩ সালে এল নিনোর উপস্থিতি নিশ্চিত করে এবং এর প্রভাব ২০২৪ ও ২০২৫ সালে আরও তীব্র হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়। এই পরিবর্তনের ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশের কৃষি বর্ষার বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল। এল নিনোর কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় বৃষ্টিপাত কমে যায় এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা ফসল উৎপাদনের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের ফলে আউশ ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসলের উৎপাদন কমেছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের (বিএমডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুনে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে ১৬% কম ছিল। ২০২৫ সালেও একই ধারা বজায় থাকলে আমন ও বোরো ধানের উৎপাদন হুমকির মুখে পড়বে।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে গবাদিপশুর রোগবালাই বাড়তে পারে, খাদ্যের ঘাটতি দেখা দিতে পারে এবং দুধ ও মাংস উৎপাদন কমে যেতে পারে। খামারিদের জন্য খাদ্য সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে উঠবে। একইভাবে, উষ্ণ আবহাওয়া জলাশয়ের অক্সিজেনের মাত্রা কমিয়ে মাছের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে চিংড়ি চাষ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, যা বাংলাদেশের মৎস্য রপ্তানি খাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

ফসল উৎপাদন কমে গেলে বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে, যা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বড় সংকট সৃষ্টি করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চাল, ডাল, সবজি ও ফলমূলের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে, যা খাদ্য নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলবে। কৃষকদের আয় কমে গেলে ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়বে এবং অনেকে বিকল্প পেশায় যেতে বাধ্য হবেন। বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে কৃষি খাত আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।

সমাধান ও করণীয়

  • আধুনিক সেচ ব্যবস্থা: এল নিনোর প্রভাব মোকাবিলায় সোলার সেচ, ড্রিপ সেচ ও পানি সংরক্ষণের কার্যকর কৌশল গ্রহণ করা দরকার।
  • খরা সহনশীল ফসলের চাষ: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ও ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) কর্তৃক উদ্ভাবিত খরা সহনশীল ফসলের চাষ বাড়ানো দরকার।
  • কৃষি বিমা: দুর্যোগকালীন সময়ে কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষি বিমার সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
  • ডিজিটাল কৃষি বাজার: কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ানো উচিত
  • সরকারি সহায়তা ও খাদ্য মজুত: খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারকে খাদ্য মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে হবে।

এল নিনোর প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের কৃষি খাতে প্রযুক্তি নির্ভরতা বৃদ্ধি, গবেষণার উন্নয়ন এবং নীতিগত সহায়তা অপরিহার্য। সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করলে কৃষির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।