তাড়াশে কৃষি জমিতে পুকুর খনন, প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষুব্ধ কৃষকরা
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় দাপটের সঙ্গে ফসলি জমিতে অনুমোদন ছাড়াই পুকুর খনন চলছে। কৃষি জমি নষ্ট করে একের পর এক তৈরি হচ্ছে গভীর পুকুর, যা কৃষি উৎপাদনের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন এসব বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না, বরং রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে।
তাড়াশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে প্রায় ১ হাজার হেক্টর ফসলি জমি পুকুরে পরিণত হয়েছে। এছাড়া জলাবদ্ধতার কারণে আরও ১৫০০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে।
একসময় এসব জমিতে ধান, পাটসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদিত হতো। এখন গভীর পুকুর খননের ফলে কৃষকদের চাষাবাদের সুযোগ হারিয়ে গেছে। বর্ষাকালে এই পুকুরগুলোর পানি আশপাশের জমি প্লাবিত করে, ফলে অন্যান্য কৃষকেরও ক্ষতি হচ্ছে।
পরিবেশবিদদের মতে, অবৈধভাবে পুকুর খননের ফলে মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে, জলাধারের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ সংকট তৈরি করতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় রাতের আঁধারে পুকুর খনন করা হচ্ছে।
- নওগাঁ ইউনিয়ন: খাঁলখুলা বাজারের পাশে আক্কাস ও রব্বান ৩০ বিঘা জমিতে পুকুর খনন করছেন। একই ইউনিয়নের সাকুই মৌজায় মানিক ২২ বিঘা তিন ফসলি জমিতে পুকুর তৈরি করেছেন।
- তাড়াশ সদর ইউনিয়ন: শ্রীকৃষ্ণপুর দক্ষিণপাড়ায় আলাউদ্দিন ও আলম ১২ বিঘা জমি, ভায়াট গ্রামে আলামিন ও রবি ১০ বিঘা জমি এবং সন্তার ব্রিজের পাশে ১৮ বিঘা জমিতে পুকুর খনন করেছেন।
- সোলাপাড়া এলাকা: মনিরুজ্জামান ও ছোরমান ৪০ বিঘা জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন করছেন।
প্রশাসনের ভূমিকা ‘নেই’ বললেই চলে
স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ আসলাম হোসেন বলেন, "অভিযোগ পেলেই আমরা ঘটনাস্থলে যাই, কিন্তু আমাদের দেখলেই তারা পালিয়ে যায়।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুইচিং মং মারমা জানান, "রাতে পুকুর খনন করা হচ্ছে, তাই আমরা ব্যবস্থা নিতে পারছি না। তবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা করছি।"
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।