২৭ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

পঞ্চগড়ে কফি চাষে সম্ভাবনা

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ · ৫ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
পঞ্চগড়ে কফি চাষে সম্ভাবনা

পঞ্চগড়ে কফি চাষের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। চাষিরা সুপারি বাগানে কফি রোপণ করছেন। মাটি ও আবহাওয়া কফির জন্য উপযোগী। কৃষি বিভাগের সহায়তায় কফি বাগান গড়ে উঠেছে। চারা রোপণের দুই থেকে আড়াই বছরে ফল আসে। বর্তমানে কৃষকরা বাজারজাত ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সমস্যায় পড়েছেন। তবে বাজারব্যবস্থা সহজ হলে কফি চাষ লাভজনক হবে। এ অঞ্চলের কৃষকরা বাড়তি আয় ও দীর্ঘমেয়াদি ফসলের আশায় কফি চাষে আগ্রহী। 

২০২১ সালের শেষের দিকে ‘কফি ও কাজু বাদাম গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের’ আওতায় জেলার তিন উপজেলায় রোবাস্টা জাতের কফি চাষ শুরু হয়। পঞ্চগড়ের মাটি ও আবহাওয়া কফির জন্য উপযোগী হওয়ায় সুপারির পাশাপাশি বিভিন্ন ছায়াযুক্ত বাগানে কফি বাগান গড়ে উঠছে।

কৃষক আব্দুল হালিম প্রধান কৃষি বিভাগের পরামর্শে তিন বছর আগে সুপারি বাগানে কফির চারা রোপণ করেন। অল্প সময়ের মধ্যে কফি গাছগুলোতে ফল আসতে শুরু করে। দুই বছর ধরে তিনি কফি হার্ভেস্ট করছেন। তবে বাজারজাত ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য দুশ্চিন্তা রয়েছে। আব্দুল হালিম জানান, বাজারজাত সহজ হলে সাথি ফসল হিসেবে কফি চাষ কৃষকদের জন্য বাড়তি আয় ও চাষের পরিধি বাড়াতে সহায়ক হবে।

আব্দুল হালিম প্রধান পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের বিষমুনি গ্রামের বাসিন্দা। দুই বছর আগে কৃষি বিভাগের সহায়তায় তার বাড়ির পাশের ছায়াযুক্ত সুপারি বাগানে ১৩৫টি কফি চারা রোপণ করেন। এখন তার বাগানে বেশ কিছু গাছের ডালে থোকায় থোকায় কফি ফল ঝুলছে। তিনি জানিয়েছেন, কিছু কফি ফল ঘরে রাখা হয়েছে। বাকিগুলো কিছু দিনের মধ্যে তোলা হবে। যদিও বাণিজ্যিক সফলতা এখনো পাওয়া যায়নি, তবে তিনি আশাবাদী। কৃষি বিভাগের সাহায্যে প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য একটি মেশিন দেওয়া হয়েছে।

এখন পর্যন্ত পঞ্চগড়ে ৪৭ জন কৃষক ১২ দশমিক ২৬ হেক্টর জমিতে ৭৪টি কফি বাগান গড়ে তুলেছেন। চাষিরা জানান, চারা রোপণের দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে কফি ফল আসতে শুরু করে। এটি দীর্ঘমেয়াদি ফসল। প্রতি বিঘা জমিতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে বছরে ১ দশমিক ৫ থেকে ২ লাখ টাকা আয় করা যায়। আব্দুল হালিম প্রধান আরও জানান, কফির চাষ পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ। এতে অতিরিক্ত জমি বা খরচের প্রয়োজন হয় না। তিনি বলেন, ‘যদি বাজারজাত করা যায় এবং দাম ভালো পাই, আশা করি লাভের মুখ দেখব।’

অন্য একটি বাগানের কৃষক আবুল বাশারও একইভাবে কফি চাষ শুরু করেছেন। তিনি জানান, তার বাগানের বয়স তিন বছর হলেও এবছরই প্রথম কফি ফল এসেছে। বাজারজাতের সুযোগ না থাকায় তিনি কফি প্রক্রিয়াজাত করার চিন্তা করছেন।

সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুল আলম বলেন, ‘কফি চাষের জন্য ছায়াযুক্ত জায়গা প্রয়োজন। যেখানে ছায়া থাকে, সেখানে কফি ভালো হয়। এই ফসলের জন্য অতিরিক্ত জমি এবং বিশেষ পরিচর্যা প্রয়োজন হয় না। কেবল আগাছানাশক স্প্রে ও ছত্রাক নাশক স্প্রে করলেই চলে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুন্নবী জানান, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা কৃষকদের মাঠপর্যায়ে চারা, কীটনাশক, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনাসহ সব ধরনের সহায়তা ও পরামর্শ দিয়েছে। তিনি আশা করছেন, পঞ্চগড়ের আবহাওয়া কফি চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় কৃষকরা লাভবান হবেন।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।