মাচায় ঝুলছে লাউ, ক্রেতা নেই
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের কৃষক সিরাজ উদ্দিনের এক একর জমিতে ছড়িয়ে আছে লাউয়ের সবুজ গালিচা। আশানুরূপ ফলন হলেও তার কপালে চিন্তার ভাঁজ। লাউ বিক্রি করতে পারছেন না, ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
চাষাবাদে তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার টাকা। অথচ এখন পর্যন্ত মাত্র সাড়ে আট হাজার টাকার লাউ বিক্রি করতে পেরেছেন। স্থানীয় বাজারে নিয়ে গেলেও ক্রেতার অভাব, আর যাঁরা কিনছেন, তাঁদের দেওয়া দাম দিয়ে পরিবহন খরচও ওঠে না।
সিরাজ উদ্দিন জানান, গত বছরের বন্যায় ক্ষতির পর তিনি লাউ চাষ করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এখন লাউ গাছেই নষ্ট হচ্ছে। কেউ কেউ গরুকে খাওয়াচ্ছেন লাউ, তবে পরিস্থিতি এমন যে, এখন গরুরাও আর আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
শুধু সিরাজ উদ্দিন নন, এই এলাকার প্রায় সব লাউ চাষিই একই সংকটে। কৃষক আবুল খায়ের জানান, তিনি ১০ শতাংশ জমিতে লাউ ও এক একর জমিতে শিম চাষ করেছেন। কিন্তু বাজারে ক্রেতা নেই, দামও নেই। তাই তিনিও লাউ বাজারে নেওয়া বন্ধ রেখেছেন।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এবার সুবর্ণচরে অনেকেই লাউ চাষ করেছেন, বাড়ির আঙিনাতেও প্রচুর গাছ লাগানো হয়েছে। ফলে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বেশি হলেও চাহিদা কম। তার ওপর এলাকার রাস্তা ভালো না হওয়ায় পাইকাররাও আসতে চান না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর নোয়াখালীতে ১৫ হাজার ১০৭ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে, যার ফলে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে এবং দাম কমে গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মীরা রানী দাশ জানান, নোয়াখালীতে সবজি সংরক্ষণের জন্য কোনো হিমাগার নেই। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। সংরক্ষণাগার হলে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পেতেন এবং এ ধরনের সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হতো।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।