২৭ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

কৃষিতে ড্রোন ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ · ৫ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
কৃষিতে ড্রোন ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ শিল্পখাতে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সরকার আধুনিক সেচব্যবস্থার পাশাপাশি ড্রোন ও স্যাটেলাইটভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়া।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন “ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন এগ্রিকালচারাল মেশিনারি অ্যান্ড বায়োরিসোর্স ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিএএমবিই-২০২৫)”-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, “নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে সরকার ও নীতিনির্ধারকদের দিকনির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্মেলন কৃষি যান্ত্রিকীকরণে নতুন ধারণা ও উদ্ভাবন আনবে বলে আমি আশাবাদী। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো জরুরি, যা যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে সহজেই সম্ভব।”

দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সোসাইটি অব এগ্রিকালচারাল মেশিনারি অ্যান্ড বায়োরিসোর্স ইঞ্জিনিয়ারিং (বিএসএএমবিই) এবং বাকৃবির কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগ।

এর আগে, সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলিপ্যাডে কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়া এবং বাকৃবির উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।

মেলায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-সহ মোট ৮টি প্রতিষ্ঠান তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি প্রদর্শন করে। সেখানে কৃষকদের জন্য নতুন কৃষি যন্ত্রপাতির লাইভ ডেমোনস্ট্রেশন, ফসল সংরক্ষণের উদ্ভাবনী পদ্ধতি এবং বায়োগ্যাস ও সৌরশক্তিচালিত যন্ত্রপাতির প্রদর্শনী করা হয়।

এছাড়া, কৃষি যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতা ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য বিশেষ ঋণ সহায়তা সম্পর্কিত পরামর্শও প্রদান করা হয়।

মেলার উদ্বোধনী পর্ব শেষে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে “কৃষি গবেষণা, যান্ত্রিকীকরণ এবং প্রযুক্তির উৎকর্ষতা” বিষয়ক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির সভাপতি প্রফেসর মো. আবদুল আওয়াল। প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া।

এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বাংলাদেশের প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. নাজমুন নাহার করিম, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মো. আবদুল্লাহ ইউসুফ আখন্দ, এসিআই মোটরস লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস।

বাকৃবির উপাচার্য প্রফেসর ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, “কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এখন অপরিহার্য। তবে আন্তর্জাতিক যন্ত্রের ওপর নির্ভর না করে আমাদের নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরি করতে হবে। কৃষকের আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় রেখে এমন যন্ত্র উদ্ভাবন করতে হবে, যা তাদের জন্য কার্যকর ও লাভজনক হবে।”

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।