২৭ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

ঘোড়ার হালে সচল মহাসিনের সংসার চাকা

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
ঘোড়ার হালে সচল মহাসিনের সংসার চাকা

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার পটুয়াকোল গ্রামের মহাসিন মণ্ডল তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। আধুনিক প্রযুক্তির দাপটের মধ্যেও তিনি এই ঐতিহ্যবাহী কৃষি পদ্ধতিকে ধরে রেখেছেন, যা গ্রামবাসীর কাছে তাঁকে ‘ঘোড়া মহাসিন’ নামে পরিচিত করেছে।

মহাসিন মণ্ডলের বাবার ঘোড়ার প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই তাঁর এই যাত্রা শুরু। পাকিস্তান আমলে তাঁর বাবা রসুল মণ্ডলের একটি ঘোড়া ছিল, যার পিঠে চড়ে তিনি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতেন। সেই অভ্যাস তাঁর ছেলে মহাসিনের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে। বাবার মৃত্যুর পর নিজেই ঘোড়া লালন-পালন শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে তা জীবিকার প্রধান উৎস হয়ে ওঠে।

প্রথমে নিজের জমিতে চাষের জন্য ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দেন মহাসিন। পরে অন্যদের জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন এবং এখান থেকে নিয়মিত আয় আসতে থাকে। তাঁর দুটি লাল রঙের ঘোড়া দিয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় তিন বিঘা জমি চাষ করা সম্ভব হয়। এক বিঘা জমি চাষের জন্য তিনি ৬০০ টাকা নেন, ফলে প্রতিদিন তাঁর আয় হয় প্রায় ১,২০০ থেকে ১,৮০০ টাকা। তবে ঘোড়ার খাবার বাবদ প্রতিদিন প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা খরচ হয়। এই আয়ে তিনি তাঁর সন্তানদের পড়াশোনা ও বিয়ে-শাদির খরচ চালিয়েছেন, এমনকি বাড়িও নির্মাণ করেছেন।

স্থানীয়দের মতে, মহাসিনের ঘোড়া দিয়ে জমি চাষের পদ্ধতি বেশ কার্যকর। ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলার যেখানে যেতে পারে না, সেখানে সহজেই ঘোড়া নিয়ে প্রবেশ করা যায়। বিশেষ করে সরু জমির আইলে বা কাদামাটিতে ঘোড়ার হাল খুবই সুবিধাজনক।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, মহাসিন দীর্ঘদিন ধরে ঘোড়া পালন করে আসছেন। একসময় তিনি ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন এবং বিভিন্ন মেলায় ঘোড়া বেচাকেনা করতেন। এখন পুরোপুরি কৃষিকাজে ঘোড়া ব্যবহার করছেন এবং এর মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

পটুয়াকোল গ্রামের বাসিন্দা বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘‘গ্রামে এখন গরুর হালের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ফলে অনেক কৃষক জমি চাষের জন্য মহাসিনের ঘোড়ার ওপর নির্ভর করেন। গরু ও ঘোড়ার চাষের খরচ প্রায় একই, তবে ঘোড়ার শক্তি বেশি হওয়ায় কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়।’’

বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কমল কৃষ্ণ রায় মহাসিনের কাজকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, ‘‘এটি ব্যতিক্রমী একটি উদ্যোগ, যা ঐতিহ্যকে ধরে রাখার পাশাপাশি কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে। শিগগিরই আমি মহাসিন মণ্ডলের সঙ্গে দেখা করে তাঁর কার্যক্রম সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানব।’’

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।