গাইবান্ধায় বিটরুট চাষে সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে কৃষক দম্পতি
গাইবান্ধা, উত্তরের কৃষিপ্রধান জনপদ, যেখানে বছরের পর বছর ধরে নানা ধরনের ফসল উৎপাদন হয়। তবে এবার এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছেন সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের কৃষক দম্পতি ফারুকুজ্জামান ফারুক ও মাহফুজা বেগম। তারা প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে চাষ করেছেন ভিনদেশি সবজি বিটরুট, যা এ অঞ্চলের কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
বিটরুট দেখতে অনেকটা পালং শাকের মতো, তবে পাতা সবুজ ও লালচে রঙের, আর মূল অংশটি গাঢ় গোলাপি বা বেগুনি। এই সুপারফুডের পুষ্টিগুণ অসাধারণ, আর বাজারেও চাহিদা বেশ ভালো। শীতকালে বেশি উৎপাদন হলেও এখন সারাবছরই বিটরুটের চাষ সম্ভব এবং দামও থাকে স্থিতিশীল।
দীর্ঘদিন ধরে ধান, পাটসহ প্রচলিত ফসল চাষ করেও আশানুরূপ লাভ করতে পারছিলেন না এই দম্পতি। কিন্তু বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসকেএস ফাউন্ডেশনের ‘এসএমএপি’ প্রকল্পের সহায়তায় তারা গত বছরের নভেম্বর মাসে ২০ শতক জমিতে বিটরুট চাষের উদ্যোগ নেন। প্রথমে সন্দিহান থাকলেও পরে ফারুকুজ্জামান রাজি হন এবং তিন মাসের মধ্যেই ভালো ফলন পান।
মাহফুজা বেগম জানান, "প্রথমে আমার স্বামী বিটরুট চাষে আগ্রহী ছিলেন না, কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় তথ্য সংগ্রহের পর রাজি হন। এখন আমাদের ভালো লাভ হচ্ছে এবং আশপাশের কৃষকরাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন।"
ফারুকুজ্জামান জানান, এসকেএস’র সহায়তায় ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ২০ শতক জমিতে বিটরুট চাষ করেন। বর্তমানে প্রায় এক হাজার কেজি বিটরুট বিক্রির অপেক্ষায় আছে এবং বাজারে প্রতি কেজি ১৫০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তারা আশা করছেন, চাষের প্রথম বছরেই লক্ষাধিক টাকা লাভ হবে।
এ বিষয়ে এসএমএপি প্রকল্পের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশিদ বলেন, "আমরা শুরু থেকেই এই কৃষক দম্পতিকে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছি এবং বাজারজাতকরণের ব্যাপারেও সাহায্য করছি।"
কৃষি বিভাগের মতে, গাইবান্ধার দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটি বিটরুট চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। মাত্র তিন মাসের মধ্যেই ফসল তোলা সম্ভব এবং সঠিক পরিকল্পনা থাকলে এটি রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।