বিলুপ্তির পথে কৃষি কর্মকর্তাদের কোয়ার্টার
যশোরের মনিরামপুরে অবস্থিত ১৮টি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার (এসএএও) কোয়ার্টার ও বীজ সংরক্ষণাগার (সিডস্টোর) দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। সংস্কারের অভাবে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে এসব সরকারি স্থাপনা, যার ফলে কর্মকর্তাদের অন্যত্র কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। একইসঙ্গে অব্যবস্থাপনার সুযোগে বেশ কিছু জমি প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে।
১৯৬০-এর দশকে, আইয়ুব খানের শাসনামলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের জন্য এসব কোয়ার্টার নির্মিত হয়, যা কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, পুনর্নির্মাণ বা সংস্কার করা হলে কৃষি খাতে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৭টি ইউনিয়নে ১৮টি কোয়ার্টার রয়েছে, যা প্রায় ২.৮৫ একর জমির ওপর নির্মিত। বর্তমানে ১.৪৫ একর জমি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) দখলে থাকলেও, ১ একর জেলা প্রশাসনের আওতায় চলে গেছে এবং ০.১৬ একর সুবল চন্দ্র নামে এক ব্যক্তির নামে রেকর্ড হয়ে গেছে।
এছাড়া, বিভিন্ন স্থানে কৃষি কর্মকর্তাদের কোয়ার্টার ও সিডস্টোরের জমি নিয়ে মামলা চলছে। যেমন, চালুয়াহাটি ইউনিয়নের নেংগুড়াহাট বাজারে ১৩ শতক জমির মধ্যে ৭ শতক নিজেদের দাবি করে মামলা করেছে নেংগুড়াহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ। শ্যামকুড় ইউনিয়নের ঘুঘুরাইল বাজারে ১৪ শতক জমি দাবি করে মামলা করেছেন আশরাফ আলী গং।
স্থানীয়দের দাবি, সঠিক নজরদারি ও সংস্কারের মাধ্যমে এই কোয়ার্টারগুলো পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করা গেলে কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে।
উপজেলায় মোট ৫২ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন। তবে বসবাসের ব্যবস্থা না থাকায় তাদের অনেককেই মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম চালানোর জন্য ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষে বসতে হয়। ২০০৫ সালের আগে এ ধরনের সুযোগও ছিল না। পরে ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনিক্যাল প্রজেক্ট (এনএটিপি)-এর আওতায় ইউনিয়ন পরিষদের কিছু কক্ষে তাদের বসার ব্যবস্থা করা হয়।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোসা. মাহমুদা আক্তার জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
সরকারি সম্পত্তির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দখলদাররা একে একে জমিগুলো নিজেদের করে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু জমি ব্যক্তি মালিকানায় চলে গেছে বা মামলা চলছে। যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে এসব কৃষি কর্মকর্তার কোয়ার্টার ও সিডস্টোর পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।