২৬ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

২১০ কোটি টাকার শিম উৎপাদন, রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ২৯ জানুয়ারি ২০২৫ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
২১০ কোটি টাকার শিম উৎপাদন, রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় শিমের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর ২১০ কোটি টাকার শিম উৎপাদিত হয়েছে, যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, প্রতিবছর গড়ে ১৫০ কোটি টাকার শিম উৎপাদন হলেও এবার ফলন বেড়েছে ৪০ শতাংশের বেশি।

শিমচাষের জন্য পরিচিত সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক শিম উৎপাদন হয়েছে। সৈয়দপুর, বারৈয়াঢালা, পৌরসদর, মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়াসহ বিভিন্ন গ্রামে কৃষকেরা শিম চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উৎপাদিত শিম দেশের বাজারে সরবরাহের পাশাপাশি ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, এ বছর ২৫০০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছে এবং প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন শিম উৎপাদিত হয়েছে। বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের কৃষক জামাল উল্লাহ জানান, তিনি ১০০ শতাংশ জমিতে কার্ত্তিকোটা শিম চাষ করেছেন। তার খরচ হয়েছে ৮০ হাজার টাকা, আর ইতোমধ্যেই তিনি ২ লাখ টাকার শিম বিক্রি করেছেন।

অন্যদিকে, আনোয়ার হোসেন ৪২ শতক জমিতে কার্ত্তিকবাটা শিম চাষ করেছেন। তার প্রাথমিক খরচ ছিল ৪০ হাজার টাকা, আর এখন পর্যন্ত ২০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছেন। তার আশা, আরও ৬০-৭০ হাজার টাকার শিম বিক্রি হবে।

পৌরসভার নুনাছড়া এলাকার কৃষক নুর নবী ১৫০ শতক জমিতে শিম চাষ করেছেন। তার খরচ হয়েছিল ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। তিনি জানান, নভেম্বর থেকে প্রতি কেজি শিম ১২০ টাকা দরে বিক্রি শুরু হয়, এখনো ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইতোমধ্যে সাড়ে ৩ লাখ টাকার শিম বিক্রি করেছেন এবং আরও লক্ষাধিক টাকা বিক্রির আশা করছেন।

কৃষকেরা জানান, সীতাকুণ্ডের শিমের স্বাদ অতুলনীয় হওয়ায় এটি আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা পাচ্ছে। পাইকাররা শিম ও বিচি পৃথকভাবে সংগ্রহ করে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছেন। এতে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে।

উপ-সহকারী কৃষি অফিসার পিপাস কান্তি চৌধুরী বলেন, ‘এ বছর শিমের রোগবালাই কম ছিল। কৃষকরা আমাদের পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক ব্যবহার করেছেন, ফলে ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকেরা এতটাই লাভবান যে অনেক ক্ষেত্রে বাজারে যেতে হচ্ছে না, পাইকাররা সরাসরি মাঠ থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।’

সীতাকুণ্ড উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের সহায়তায় কৃষকেরা ভালো ফলন পেয়েছেন। এ বছর ২১০ কোটি টাকার শিম বিক্রি হবে, যা অতীতের তুলনায় অনেক বেশি।’

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।