২৬ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

কমলা চাষে সাড়া ফেলেছেন লালমনিরহাটের শিক্ষক দম্পতি

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ২৯ জানুয়ারি ২০২৫ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
কমলা চাষে সাড়া ফেলেছেন লালমনিরহাটের শিক্ষক দম্পতি

শীতের হিমেল বাতাসে দুলছে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে সোনালি রঙের কমলা, যা আকর্ষণ করছে পথচারীদের দৃষ্টি। লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার এক শিক্ষক দম্পতি তাঁদের কমলা বাগানের সাফল্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন। শখের বসে শুরু করা এই চাষ এখন তাঁদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে।

উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের পশ্চিম সারডুবী গ্রামের খলিলুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী ফাতেমা খাতুন মজুমদার শিক্ষকতার পাশাপাশি সমতল ভূমিতে চায়না, নাগপুরি ও দার্জিলিং জাতের কমলা চাষ করছেন। তাদের কমলা বাগান আজ জেলার মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

খলিলুর রহমান পেশায় মিলন বাজার মোজাম্মেল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং তাঁর স্ত্রী ফাতেমা খাতুন মজুমদার পশ্চিম সারডুবী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। শিক্ষাদানের পাশাপাশি তাঁরা ১৯৯৫ সালে নার্সারি ব্যবসা শুরু করেন এবং ২০১১ সালে এক বিঘা জমিতে দার্জিলিং জাতের কমলা চারা রোপণ করেন।

২০১৫ সালে তাঁদের গাছে ব্যাপকভাবে ফলন হয়, যা দেখে কৃষি বিভাগও প্রশংসা করে। এরপর ২০১৬ সালে জাতীয় কৃষি পুরস্কার অর্জন করেন তাঁরা। সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে পরবর্তী সময়ে এক একর জমিতে কমলার চাষ বাড়ান এবং ২০২৪ সালের শেষের দিকে প্রতিটি গাছে আশানুরূপ ফলন পান।

খলিলুর রহমান জানান, ‘‘আমার স্ত্রী প্রথমে শখের বসে কয়েকটি কমলার গাছ লাগিয়েছিল। পরে দেখলাম, ফলন ভালো হচ্ছে। তিন বছরের মধ্যে গাছে প্রচুর ফল ধরলো। এখন বাজারে লক্ষাধিক টাকার কমলা বিক্রি করেছি। এতে আমাদের নিজস্ব চাহিদা মিটছে, পাশাপাশি বাড়তি আয়ে স্বচ্ছলতা এসেছে।’’

ফাতেমা খাতুন মজুমদার বলেন, ‘‘শিক্ষকতার পাশাপাশি শখের বসে চাষ শুরু করলেও কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় আমরা ভালো ফল পাচ্ছি। তাঁদের পরামর্শে বাগান পরিচর্যা করায় ফলনের পরিমাণও বেড়েছে।’’

ফল ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, ‘‘আমাদের দেশে মূলত বিদেশ থেকে কমলা আমদানি করতে হয়, যা ব্যয়বহুল। তবে দেশি কমলা উৎপাদন বাড়লে আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং বাজারে ন্যায্যমূল্যে ভালো মানের ফল পাওয়া যাবে। বর্তমানে দেশি কমলার চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।’’

স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন মিয়া বলেন, ‘‘আমাদের এলাকায় এত সুন্দর কমলা বাগান হবে, ভাবিনি! এখন অনেকেই দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।’’

উপজেলা কৃষি অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, ‘‘শিক্ষক দম্পতির বাগান পরিদর্শন করেছি। তাঁরা দারুণ ফলন পেয়েছেন এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে নিয়মিত বাগানের যত্ন নিচ্ছেন। আশা করি, এ উদ্যোগ দেখে আরও কৃষক কমলা চাষে আগ্রহী হবেন।’’

শিক্ষক দম্পতির এই সাফল্য প্রমাণ করছে, বাংলাদেশে সমতল ভূমিতেও বাণিজ্যিকভাবে কমলা চাষ সম্ভব, যা ভবিষ্যতে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।