লালমনিরহাটের তিস্তাপাড়ের কৃষি বদলে দিয়েছে জীবন
লালমনিরহাটে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীর বুকে জেগে উঠেছে শতাধিক চর। নদীর বুকে সাদা বালির বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন চাষাবাদের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। উজানের বন্যার পানিতে ভেসে আসা পলিমাটি এই বালুকে চাষাবাদের উপযোগী করে তুলেছে। কৃষকরা বাদাম, আলু, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, মিষ্টি কুমড়া ও অন্যান্য অর্থকরী ফসল ফলিয়ে অর্থনৈতিক সাফল্যের পথে এগোচ্ছেন।
তবে নদীতে পানি না থাকায় কৃষকরা সেচের জন্য শ্যালো মেশিন ব্যবহার করছেন। বালুকাবেলায় সেচ দেওয়া পানির দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। এতে কৃষকরা আর্থিক সংকটে পড়লেও চরের জমির বেশি উৎপাদনশীলতা তাদের আশাবাদী করছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, এই চরে গ্রামের দামি জমির তুলনায় অনেক বেশি ফলন হচ্ছে। জমিহীন বর্গাচাষিরাও এখানে কম খরচে জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করছেন। তিস্তার পলিযুক্ত বালিতে কম সার এবং পানি ব্যবহারেই ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে।
তিস্তা নদী খনন করে স্থায়ী পানির প্রবাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা। এতে নতুন জেগে ওঠা চরাঞ্চলগুলো চাষের আওতায় আনা সম্ভব হবে এবং কৃষকদের সেচনির্ভর চাষাবাদের খরচও কমবে।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমি চাষযোগ্য। নতুন চরগুলোও চাষাবাদের উপযোগী করা হচ্ছে। এ বছর চরাঞ্চলে ব্যাপক ফসল উৎপাদন হয়েছে, বিশেষ করে আমন ধানের ফলন উল্লেখযোগ্য।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।