বগুড়ার গরুর মাংসের আচার এখন বিশ্ববাজারে
মহামারি করোনার সময় জীবনে নেমে এসেছিল অন্ধকার। চাকরি হারান বগুড়ার সিহাবুর রহমান। জীবিকার সংকটে পড়ে স্ত্রী আফসানা নীরা এক সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। কোনো পুঁজির ব্যবস্থা করতে না পেরে আফসানা তার প্রিয় মোবাইল ফোনটি মাত্র ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে শুরু করেন গরুর মাংসের আচারের ব্যবসা। স্বামীর সহায়তায় অদম্য প্রচেষ্টায় এই উদ্যোগ আজ তাদের জীবনে এনে দিয়েছে সাফল্যের আলো।
আফসানার হাত ধরেই মাংসের আচার ব্যবসা সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে। তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম "আচারি ফুড"। এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। প্রথমে বগুড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, বর্তমানে তাদের আচার দেশের বিভিন্ন জেলায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে, যেমন সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ায় পৌঁছে গেছে।
আফসানা এখন গরুর মাংসের আচার ছাড়াও রসুন, আম, বরই, তেঁতুল, জলপাই, আলুবোখারা, চালতা, শুকনা মরিচ ও কাঁচামরিচের আচার তৈরি করেন। তার আচার তৈরির বিশেষত্ব হলো, এতে খাঁটি সরিষার তেল ব্যবহার হয় এবং পানি ব্যবহার প্রায় নেই বললেই চলে।
মাসে কর্মীদের বেতন দিতে এক লাখ টাকা খরচ করেও আফসানা-সিহাবুর দম্পতির মুনাফা দাঁড়ায় দুই লাখ টাকা। তাদের কারখানায় বর্তমানে ১২ জন নারী কাজ করছেন, যা স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখছে।
আফসানা ইতোমধ্যেই বগুড়া জেলা ও রাজশাহী বিভাগ থেকে সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি পেয়েছেন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকেও প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করেছেন। তার সাফল্য দেখে অনেকেই আজ অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। ভবিষ্যতে আরও বড় আকারে আচার তৈরির কারখানা গড়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।