২৬ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

ক্ষতি জেনেও লাভের আশায় তামাক চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ২২ জানুয়ারি ২০২৫ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
ক্ষতি জেনেও লাভের আশায় তামাক চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

নাটোরের লালপুর উপজেলার চংধুপাইল ইউনিয়নের পুকুন্দা এলাকার কৃষক আবুল মাজন আলী আখ, ধান ও গম চাষ করতেন। তবে এসব ফসলের বিক্রির নিশ্চয়তা এবং ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় বারবার লোকসানের মুখে পড়তে হয়। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে গত বছর তিনি ৩০ বিঘা জমিতে তামাক চাষ শুরু করেন। প্রথমবারের অভিজ্ঞতায় লাভ হওয়ায় এবার আরও বেশি জমিতে তামাক চাষ করেছেন।

আবুল মাজন আলী জানান, তামাক কোম্পানি তাঁকে বীজ, সার এবং সুদমুক্ত ঋণ দিয়ে সহায়তা করে। উৎপাদিত তামাক বাড়ি থেকেই কেনা হয় এবং তা উচ্চ মূল্যে বিক্রি হয়। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি জেনেও তামাক চাষ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, সমকালীন ফসল আবাদে কোনো সমস্যা হলে কৃষি অফিসের মাঠকর্মীদের পাওয়া যায় না। অন্যদিকে, তামাক কোম্পানিগুলো আবাদ শুরুর আগে থেকেই দর নির্ধারণ, বিক্রির নিশ্চয়তা, সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে থাকে। এতে তামাক চাষে ঝুঁকছেন অনেকে।

উপজেলার কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা যায়, চংধুপাইল ইউনিয়ন ছাড়াও আড়বাব, আব্দুলপুর, দুয়ারিয়া, এবি, দুড়দুরিয়া এবং কদিমচিলান এলাকায় তামাক চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। তামাক ক্ষেতের পাশেই বসতবাড়িতে তৈরি করা হচ্ছে তামাক পোড়ানোর চুল্লি, যা পরিবেশ এবং মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

গত বছর উপজেলায় ৪৫ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছিল। এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ হেক্টরে। এক বছরের ব্যবধানে ১৪ হেক্টর জমিতে তামাক চাষের পরিমাণ বেড়েছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।

পুকুন্দা মাঠের কৃষক নাসির উদ্দিন জানান, তিনি ১০ বিঘা জমিতে তামাক চাষ করেছেন। আগে এ জমিতে আখ চাষ হতো। তবে আখের বিক্রির নিশ্চয়তা না থাকায় তিনি তামাকের দিকে ঝুঁকেছেন। তাঁর ভাষ্য, প্রতি বিঘা জমিতে তামাক চাষে ৪৫-৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ বিক্রি থেকে আয় হয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

অপর কৃষক কুদ্দুস আলী জানান, তিনি ১০ বিঘা জমিতে তামাক চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় খরচ হয় ৫০ হাজার টাকা। তবে বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। তাঁর উৎপাদিত তামাক ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি মাঠ থেকেই কিনে নিয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, তামাক কোম্পানি অগ্রিম টাকা এবং তামাক বিক্রির নিশ্চয়তা দেওয়ায় কৃষকরা লাভের আশায় এ ক্ষতিকর ফসল চাষ করছেন। কৃষকদের নিরুৎসাহিত করতে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করা হলেও, লাভজনক হওয়ায় তামাক চাষে তাদের আগ্রহ কমছে না।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।