২৬ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

মুড়িকাটা পেঁয়াজ নিয়ে মাথায় হাত কৃষকের

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ৬ জানুয়ারি ২০২৫ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
মুড়িকাটা পেঁয়াজ নিয়ে মাথায় হাত কৃষকের

নতুন করে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষে নেমেছিলেন পাবনার চরতারাপুর ইউনিয়নের বাহিরচর গ্রামের কৃষক রাব্বি হোসাইন। সাত বিঘা জমিতে চাষের জন্য নিজের হালের গরু, ছাগল ও অন্যান্য ফসল বিক্রি করে পুরো অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে প্রথম দফার ফসল পচে যায়। দ্বিতীয়বার চাষাবাদ করতে গিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকা ঋণ করতে বাধ্য হন তিনি। চুক্তি ছিল, ফসল তোলার পর সেই ঋণ পরিশোধ করবেন। কিন্তু বর্তমান বাজার দর দেখে মনে হচ্ছে, উৎপাদন খরচও উঠে আসবে না।

রাব্বি জানান, প্রথমে ৫-৬ হাজার টাকা মণ দরে বীজ কিনে পেঁয়াজ লাগিয়েছিলেন। কিন্তু বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়ায় দ্বিতীয়বার ৭-৯ হাজার টাকা মণ দরে বীজ কিনতে হয়েছে। বিঘাপ্রতি দেড় লাখ টাকার বেশি খরচ হলেও, ফলন থেকে মাত্র ৭০-৮০ হাজার টাকা ওঠার সম্ভাবনা। এত বড় ঋণ পরিশোধ করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুধু রাব্বি নন, রাজশাহী বিভাগের আরও অনেক কৃষক একই সংকটে পড়েছেন। মণপ্রতি আবাদে ২ হাজার টাকার ওপর খরচ হলেও, বর্তমান বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে। গত মৌসুমের তুলনায় এবার গড় ফলন হয়েছে প্রায় অর্ধেক। কৃষকরা ফলন বিপর্যয় এবং বাজার দরের পতনের জন্য পেঁয়াজ আমদানি ও ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন। তারা দ্রুত আমদানি বন্ধ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়েছেন, ক্ষতির পরিমাণ কমাতে ধীরে ধীরে পেঁয়াজ বাজারজাত করতে। পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, তারা বাজারে ব্যবসায়ীদের অনিয়ম রোধে কাজ করছেন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আমদানি বন্ধের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পাকুরিয়া এলাকার শফিকুল ইসলাম ছানা জানান, এবার বীজের দাম ছিল ৮-১০ হাজার টাকা মণ। বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিক খরচসহ বিঘাপ্রতি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। তবে ফলন থেকে মাত্র ৮০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে, যা দিয়ে পুরো খরচ মেটানো সম্ভব নয়।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাবিনা বেগম জানান, দাম কিছুটা বাড়ছে এবং এই ধারাবাহিকতা থাকলে কৃষকদের ক্ষতির আশঙ্কা নেই।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষকরাও একই সমস্যার মুখোমুখি। স্থানীয় কৃষকরা জানুয়ারী থেকে মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় এবার পেঁয়াজের আবাদ বেড়েছে, কিন্তু অনেকেই উৎপাদন খরচ তুলতে পারবেন না বলে আশঙ্কা করছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওবায়দুল হক আশা করছেন, রমজানে পেঁয়াজের ভালো দাম পাবেন কৃষকরা।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।