২৫ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

স্বপ্ন নিয়ে ফুলকপি চাষ, বাজারদরে বেজায় হতাশ

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ৪ জানুয়ারি ২০২৫ · ৩ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
স্বপ্ন নিয়ে ফুলকপি চাষ, বাজারদরে বেজায় হতাশ

শীতকালীন সবজি হিসেবে ফুলকপি চাষ করে মুনাফার আশায় দিন গুনছিলেন লালমনিরহাটের চাষিরা। তবে উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম দামে ফসল বিক্রি হওয়ায় তারা পড়েছেন বিপাকে। বাজারে সবজির অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে ফুলকপির দরপতন ঘটছে। ফলে চাষিদের ঋণ শোধ করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চাষিরা জানিয়েছেন, প্রতি পিস ফুলকপির উৎপাদন খরচ পড়ে ৮ থেকে ১০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে প্রতি পিস ফুলকপি বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ৬ টাকায়। এতে উৎপাদন খরচই মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ফুলকপি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণও সম্ভব নয়।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট এবং কমলাবাড়ি এলাকার চাষিরা ফুলকপি ও বাঁধাকপির আবাদে ব্যাপকভাবে যুক্ত থাকলেও এবার লোকসানের মুখে পড়েছেন। এ অঞ্চলের ফসল জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা ও অন্যান্য অঞ্চলে পাঠানো হলেও লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন না চাষিরা।

কমলাবাড়ি এলাকার চাষি আসাদ মিয়া বলেন, “২৭ শতাংশ জমিতে ফুলকপির চাষ করেছি। এতে ৫ হাজার চারার উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রতি পিস ৮ থেকে ১০ টাকা। কিন্তু বর্তমান বাজারে ৫ থেকে ৬ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। উৎপাদন খরচই উঠছে না। ঋণ শোধ করব কীভাবে বুঝতে পারছি না।”

একই গ্রামের আরেক প্রান্তিক চাষি নুর নবী জানান, “১৪ শতাংশ জমিতে ফুলকপির চাষ করেছিলাম। আশা ছিল, লাভ দিয়ে আলু ও মরিচের চাষ করব। কিন্তু দেড় হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। এখন আলু-মরিচ চাষাবাদও অনিশ্চিত।”

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাইফুল আরেফিন জানান, চলতি মৌসুমে জেলার প্রায় সাড়ে ছয় হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে। বাজারে সব ধরনের সবজির সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কমেছে। তবে চাষিদের লোকসান কিছুটা হলেও সাময়িক বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।