এবার শেরপুরে বাণিজ্যিকভাবে কফি চাষ শুরু
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে কফি চাষ শুরু হয়েছে, যা স্থানীয় কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করেছে। কৃষি বিভাগের মতে, সফলতার সঙ্গে কফি চাষ বৃদ্ধি পেলে আগ্রহী কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও বিপণনের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
উদ্যোক্তা কৃষিবিদ সাজ্জাদ হোসাইন তুলিপ ২০২১ সালে বান্দরবানে চাকরি করার সময় কফি চাষের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি নালিতাবাড়ীতে পরীক্ষামূলকভাবে ২৫০টি কফি চারা রোপণ করেন। সফলতা পাওয়ার পর ২০২২ সালে এক হাজার চারা রোপণ করেন। বর্তমানে তার তিন বিঘা জমিতে রয়েছে প্রায় আটশ কফি গাছ।
সাজ্জাদ হোসাইন জানান, “আমার খামারে ছয় থেকে সাতশ গাছ রয়েছে, যেগুলো থেকে বাণিজ্যিকভাবে কফি ফল সংগ্রহ করে বিক্রি করছি। খামারে আরও ২০ হাজার কফি চারা আছে, যা শেরপুরসহ আশপাশের জেলায় বিনামূল্যে ৫০ হাজার চারা বিতরণ করেছি।”
কফি গাছ রোপণের দুই বছর পর ফল দিতে শুরু করে এবং গাছটি প্রায় ৩০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকে। ফল সংগ্রহের পর তা প্রক্রিয়াজাত করে রোস্টেড কফি বিন তৈরি হয়। একটি পরিপক্ব গাছ বছরে পাঁচ থেকে ছয় কেজি ফল দেয়, যা থেকে এক কেজি রোস্টেড বিন তৈরি করা যায়। এই রোস্টেড বিনের বাজারমূল্য প্রায় দুই হাজার টাকা।
বাংলাদেশে বছরে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার কফি আমদানি হয়। সফলভাবে কফি চাষ হলে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলা সম্ভব।
শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, “শেরপুরের মাটি ও আবহাওয়া কফি চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকদের কফি চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। শ্রীবরদি, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় কফি চাষের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল।”
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।