তামাক চাষে আলীকদমের পরিবেশ বিপর্যয়
পাহাড়ি অঞ্চলে জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে সমৃদ্ধ বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় সম্প্রতি তামাক চাষের বিপুল প্রসার ঘটেছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমি তামাক চাষের আওতায় এসেছে। নদীর চর, ঝিরি, ফসলি জমি ও সরকারি খাস ভূমি এই চাষের শিকার। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পানির উৎস থেকে ৫০ ফুট দূরে তামাক চাষ বাধ্যতামূলক হলেও এই নিয়ম কার্যত উপেক্ষিত।
তামাক কোম্পানিগুলো কৃষকদের নগদ অর্থ, সার, এবং বীজ সরবরাহ করে। যদিও এতে তাৎক্ষণিক লাভের সুযোগ সৃষ্টি হয়, দীর্ঘমেয়াদে কৃষকরা মাটির উর্বরতা এবং পরিবেশগত ক্ষতির সম্মুখীন হন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান উবিনীগের মতে, তামাককে প্রধান ফসল বিবেচনা করার ফলে কৃষকরা অন্যান্য ফসল চাষ করতে পারছেন না, যা স্থানীয় খাদ্য সংকট এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যহীনতার সৃষ্টি করছে।
তামাক চাষে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারে মাতামুহুরী নদী ও ঝিরির পানি দূষিত হচ্ছে। এতে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বন উজাড় করে তামাক চাষের জন্য জমি তৈরি এবং কাঠ পুড়িয়ে তামাক শুকানোর ফলে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। এ ছাড়াও অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের কারণে মাতামুহুরী নদীর নাব্যতা হ্রাস পাচ্ছে।
তামাক চাষের সঙ্গে যুক্ত কৃষক এবং শ্রমিকরা দীর্ঘসময় রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে থাকেন। এর ফলে ত্বক ও শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগ দেখা দিচ্ছে। তবে কৃষকদের মধ্যে স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং পরিবেশগত ক্ষতির ব্যাপারে সচেতনতার অভাব প্রকট।
উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকদের বাদাম, ভুট্টা, সবজির মতো বিকল্প ফসল চাষে প্রণোদনা দিচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর নজরদারির মাধ্যমে নদীর ধারে তামাক চাষ বন্ধে অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিকল্প আয়ের সুযোগ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তামাক চাষের এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।