২৫ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

ইলেকট্রিক মেকানিক থেকে কৃষি উদ্যোক্তা সুমন এখন সফল লেবু চাষী

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪ · ৫ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
ইলেকট্রিক মেকানিক থেকে কৃষি উদ্যোক্তা সুমন এখন সফল লেবু চাষী

সুমন হোসেন বাপ্পি। যশোরের কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের যুবক। তিনি গ্রামের বাজারে একটি দোকানে ইলেকট্রিক মেকানিকের কাজ করতেন। ইউটিউবে ভিডিও দেখে শুরু করেন বীজবিহীন (সিডলেস) লেবু চাষ। প্রথমবারেই আবাদকৃত জমিতে লেবুর ব্যাপক ফলন পাওয়ায় ও বাজারে এ লেবুর চাহিদা থাকায় মেকানিকের কাজ ছেড়ে এখন তিনি হয়ে উঠেছেন কৃষি উদ্যোক্তা।

নতুন একটি জমি বর্গা নিয়ে সেখানে এ লেবু চাষ শুরু করছেন। লেবু ও লেবুর কলম বিক্রি করে তিনি এখন স্বাবলম্বী। তার এ সফলতা দেখে এলাকার অনেকেই এখন ওই লেবু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

সুমন হোসেন বাপ্পি উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের মোজাম উদ্দীন গাজীর ছেলে। এসএসসি পাশ করার পর থেমে যায় পড়াশোনা। পরে ইলেকট্রিক মেকানিকের কাজ শিখে মঙ্গলকোট বাজারের পাশে একটি দোকান নিয়ে কাজ করতে থাকেন।

তবে ব্যবসা মন্দা যাওয়ায় ইউটিউবে ভিডিও দেখে বছর দেড়েক আগে যশোরের বাঘারপাড়া থেকে দেড় শতাধিক লেবুর কলম কিনে আনেন। জমি প্রস্তুত করা, লেবুর কলম লাগানোসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে ১০ হাজার টাকা ব্যয় করেন। ৮ মাস পর প্রতিটি গাছে লেবু ধরে। প্রথমবারেই তিনি প্রায় ১৫ হাজার পিচ লেবু বিক্রি করেছেন। একেকটি লেবু বিক্রি করে এক থেকে ৬ টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত দাম পেয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৪ হাজার পিচ লেবুর কলম তৈরি করেছেন। একেকটি কলম ৮০ থেকে একশ’ টাকায় বিক্রি করছেন। 

বীজবিহীন (সিডলেস) এ লেবুতে প্রচুর রস হওয়ায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এছাড়া এ লেবুর কলম কিনতে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ওই বাগানে আসছেন। লেবু বাগানে নিয়মিত একজন শ্রমিক কাজ করেন। এছাড়া লেবুর কলম তৈরির সময় কাজ করেন ৩/৪ জন শ্রমিক।

কৃষি উদ্যোক্তা সুমন হোসেন বাপ্পি (২১) বলেন, ‘ইউটিউবে ভিডিও দেখে দেড় শতাধিক বীজবিহীন (সিডলেস) লেবুর কলম কিনে ২৬ শতক জমিতে আবাদ করেন। ৮ মাসের মাথায় প্রথম ফলন পান। গাছের বয়স এখন ১৮ মাস। প্রতিটি গাছে প্রায় দেড় হাজার লেবুর ফলন পেয়েছেন। এসব লেবু পাশের চুকনগরের আঠারোমাইল বাজারসহ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। 

লেবুতে বীজ না থাকায় শরবত বিক্রেতারও বাগান থেকে লেবু কিনে নিয়ে যান। লেবু বিক্রি করে ভালো লাভবান হওয়ায় আরও ৩৬ শতক জমিতে লেবু চাষ শুরু করেছেন। এ লেবু চাষে তেমন রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয় না। জৈব সার ব্যবহার করে ভালো ফলন পাওয়া যায়। তাই খরচও কম। বারোমাসি এ লেবু চাষ করে প্রতি মৌসুমে লক্ষাধিক টাকা আয় করা সম্ভব।’ এ কাজে কৃষি অফিসের পরামর্শ পেয়েছেন বলেও জানান।

তিনি আরও বলেন, প্রথম যখন লেবুর কলম কিনে আনেন তখন এলাকার অনেকেই তাকে পাগলসহ বিভিন্ন কথা বলতো। যারা এসব কথা এখন তারাই তার কাছ থেকে লেবু কিনছেন। এবং এ কাজে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের অনেকেই এখন লেবুর বাগান করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

সুমন হোসেন বাপ্পি বলেন, দেশে অসংখ্য বেকার যুবক রয়েছে। তারা যদি কৃষি উদ্যোক্তা হয় তাহলে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি বেকারত্ব দূর হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বলেন, সুমনের বীজবিহীন (সিডলেস) লেবু চাষের বিষয়ে কৃষি অফিস থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়। তার বাগান দেখে অন্যরাও লেবুর বাগান করার জন্য উৎসাহী হয়েছেন। নতুন কৃষি উদ্যোক্তাদেরও কৃষি অফিস থেকে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হবে। এভাবে নতুন নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি হলে কৃষি খাত এগিয়ে যাবে। 

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।