২৫ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

কামারখন্দে প্রথম জিরা চাষ শুরু

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪ · ৫ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
কামারখন্দে প্রথম জিরা চাষ শুরু

সুস্বাদু রান্নার গুরুত্বপূর্ণ একটি মসলার নাম জিরা। দেশে এই জিরার চাহিদা পূরণে পুরোটাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আমাদের দেশে সাধারণত এই মূল্যবান মসলার আবাদ হয় না। কৃষি বিভাগের প্রচেষ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যৎকিঞ্চিত পরীক্ষামূলক এর চাষ শুরু হয়েছে। 

এরই ধারাবাহিকতায় এবারই প্রথম সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে জিরা মসলার চাষ শুরু হয়েছে। কৃষি উদ্যোক্তা মাহবুবুল ইসলাম পলাশ এই জিরা চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন।

এলাকাবাসী জানায়, কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট গ্রামের মাহবুবুল ইসলাম পলাশ একজন কৃষি উদ্যোক্তা। তার প্রায় সাত বিঘা জমিতে ৩৪৫ প্রজাতির ৪ হাজার রকম বিরল প্রজাতির বৃক্ষ রয়েছে। এ জন্য তিনি জাতীয় কৃষি পুরস্কারসহ একাধিক পুরস্কারও পেয়েছেন। এবার তিনি সখের বশে ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে তার বাড়ির পাশের ১০ শতক জমিতে প্রথমবারের মতো বারি-১ জাতের ৪০০ গ্রাম জিরা বীজ বপন করেছেন। 

বগুড়া মসলা গবেষণা কেন্দ্রে বাংলাদেশে চাষ উপযোগী জিরার জাত উদ্ভাবনে সফলতা এসেছে। নাম দেওয়া হয়েছে বারি জিরা-১। এই ধরনের জিরা চাষে শুষ্ক আবহাওয়া অর্থাৎ শীতকাল প্রয়োজন।

এই কৃষি উদ্যোক্তার বিরল বৃক্ষ সংগ্রহ এবং ফসল চাষের আগ্রহ থেকেই তিনি এই জিরা চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ইতিমধ্যেই তিনি নিজের জমিতে জিরা চাষ শুরু করে এলাকায় ব্যাপক সারা ফেলেছেন। এলাকাবাসী আশা করেছেন এবারও তিনি ভালো সাফল্য লাভ করবেন। জিরার ফলন ভালো হলে আগামীতে চাষাবাদের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি এলাকার কৃষকদের মাঝে এই চাষাবাদের সহযোগিতা করবেন জানিয়েছেন পলাশ।

এ প্রসঙ্গে মাহবুবুল ইসলাম পলাশ জানান, বগুড়ার মসলা গবেষণা থেকে ২ হাজার টাকায় বারি-১ জাতের ৪০০ গ্রাম জিরার বীজ সংগ্রহ করে ১০ শতাংশ জমিতে বীজ রোপণ করেছেন। জিরা ঘরে তুলতে প্রায় ১১০ দিনের মতো সময় লাগবে। আশা করছি ফলন ভালো হলে প্রায় ২০ কেজি জিরা উৎপাদন হবে। প্রতি কেজি জিরার বীজ ৮ হাজার টাকা দরে বিক্রি করলে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার মতো জিরা বীজ বিক্রি করা যাবে। 

তিনি বলেন, জিরা চাষে সফল হলে উপজেলার কৃষকদের সুলভ মূল্যে বীজ দেওয়ার চেষ্টা করবো। এ ছাড়া জিরা চাষে আগ্রহী কৃষকদের পরামর্শসহ সব ধরনের সহযোগিতা করবেন বলেও তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, কৃষকরা জিরা চাষ করলে অন্য ফসলের চেয়ে অধিক লাভবান হবে। 

জিরা চাষের জন্য প্রয়োজন বেলে-দোআঁশ মাটি। উঁচু ভিটা তৈরি করে চাষ করলে এর ভালো ফলন পাওয়া যায়। ইতিমধ্যে এই জিরা চাষের জমি দেখতে আশপাশের কৃষকরা আসছেন। তারাও জিরা চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

এ বিষয়ে কামারখন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মণ জানান, নতুন ফসল হিসেবে মাহবুবুল ইসলাম পলাশ পরীক্ষামূলকভাবে জিরা চাষ শুরু করেছেন। জিরা চাষের বিষয়ে কৃষি বিভাগের সহযোগিতা রয়েছে। আমরা শেষ পর্যন্ত জিরার ফলন কেমন হয় সেটা দেখব। তারপর অন্যদের এই জিরা চাষে উদ্বুদ্ধ করব।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।