হলুদের সঙ্গে বেগুন চাষ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা বেগুন ও হলুদ সাথি ফসল চাষাবাদে ব্যাপক সফলতা পাচ্ছেন। এই পদ্ধতির মাধ্যমে তারা শুধু আর্থিক লাভই করছেন না, বরং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের চন্দের হাটের কৃষক এনামুল হক জানান, বেগুন ও হলুদ একসঙ্গে চাষ করে তারা ফসল উৎপাদন খরচ কমাতে এবং অধিক মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছেন। বেগুনের শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশ করে মাটি উর্বর করে তোলে, যা হলুদের জন্য সহায়ক।
কৃষক আমজাদ হোসেন জানান, ৪৫ শতক জমিতে বেগুন চাষে তিনি ১ লাখ টাকা খরচ করে প্রায় আড়াই লাখ টাকা আয় করেছেন। বেগুন চাষের পর বাকি সার হলুদ চাষে ব্যবহার করায় অতিরিক্ত ব্যয় হয়নি। ৪৫ শতক জমিতে ১২০ থেকে ১৩০ মণ কাঁচা হলুদ উৎপাদন হয়েছে, যা বাজারে ১২০০-১৩০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এভাবে কৃষকরা এক মৌসুমেই দুই ফসল থেকে উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করতে পারছেন।
তাজুল ইসলাম, আবুল হোসেন এবং আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে তারা এই চাষাবাদ শুরু করেছেন। এতে উৎপাদন খরচ কমছে, ফলনের পরিমাণ বাড়ছে এবং তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ শাহিনুর ইসলাম বলেন, দীর্ঘমেয়াদি হলুদ চাষের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি বেগুন চাষে কৃষকরা দ্রুত ফলন পেয়ে লাভবান হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ সাথি ফসল চাষ বৃদ্ধিতে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি দুই ফসলি জমিকে তিন বা চার ফসলি জমিতে রূপান্তরের জন্যও কাজ চলছে।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।