বোরো আবাদে নেত্রকোনায় কৃষকের দুশ্চিন্তা
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ফসলের মাঠজুড়ে বোরো আবাদের তোড়জোড় চলছে। কৃষকেরা শীতের প্রচণ্ড তীব্রতার মধ্যেও নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। তবে এবার চাষাবাদের খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিক সংকট কৃষকদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শীতের কারণে বীজতলা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং সারের মূল্যবৃদ্ধি, সেচের খরচ বৃদ্ধি ও শ্রমিকের অভাবের কারণে প্রতি কাঠায় বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। অনেক কৃষক জানান, শ্রমিকের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনোভাবে শ্রমিক পাওয়া গেলেও দিতে হচ্ছে বাড়তি মজুরি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকেরা বোরো চারা তুলে বস্তায় ভরে মাঠে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ মই দিয়ে জমি সমতল করছেন, আবার কেউ সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণ করছেন। অন্যদিকে, কিছু জমিতে চলছে গভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচের কাজ।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ১৭,৬৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে শুরু হওয়া এই আবাদ কার্যক্রম চলবে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত। কৃষি অফিসার হাবিবুর রহমান জানান, ২,৫০০ কৃষককে সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। সময়মতো আবাদ সম্পন্ন করতে পারলে ভালো ফলনের আশা রয়েছে।
বাঘমারা গ্রামের জানু মিয়া, ফতেপুর গ্রামের সবল মিয়া এবং দেওশহিলা গ্রামের সামিউরসহ কয়েকজন কৃষক জানান, প্রতি মৌসুমে ফসলের দাম কম থাকায় উৎপাদন খরচও উঠে আসে না। ফলে ঋণের চাপ বাড়ে। এবার শ্রমিক সংকট ও সেচের খরচ বৃদ্ধি তাদের জন্য নতুন দুশ্চিন্তা যোগ করেছে।
শ্রমিকদের মজুরি গত বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে। আগে যেখানে ৫০০-৬০০ টাকা মজুরি ছিল, এখন তা ৮০০-১০০০ টাকা হয়ে গেছে। এরপরও শ্রমিক সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না।
বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সেচের খরচও বেড়েছে বলে জানান কৃষকেরা। এই পরিস্থিতিতে বোরো আবাদ সময়মতো সম্পন্ন করা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।