বিলুপ্তির পথে বিন্না ঘাস
গ্রামবাংলার সুপরিচিত বিন্না ঘাস, যা স্থানীয়ভাবে বিন্না ছন নামে পরিচিত, ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে চলছে। সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্ব ঐতিহ্য রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর এলাকা থেকে এই ঘাসের অস্তিত্ব ক্রমশ কমে যাচ্ছে। একসময় টাঙ্গুয়ার হাওরের বিভিন্ন রাস্তার ধারে এবং বনবাদাড়ে এই ঘাস প্রকৃতিকে শোভা দিত। গরমের সময়, স্থানীয়রা এই ঘাসকে ঘরের ছাউনি হিসেবে ব্যবহার করে আরাম পেতেন।
কিন্তু প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে ইট-পাথর এবং ঢেউটিনের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিন্না ঘাসের কদর কমে গেছে। বর্তমানে, অযত্ন ও অবহেলার কারণে এই ঘাসগুলো আর সচরাচর দেখা যায় না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিন্না ঘাসকে পাহাড় রক্ষার "জাদুর ঘাস" বলা হয়, কারণ এর লম্বা শিকড় মাটির নিচে জালের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং ১০ থেকে ১৪ ফুট পর্যন্ত গভীরে চলে যায়।
বিন্না ঘাসের উপকারিতা অনেক; এটি পানি পরিষ্কার করতে এবং পানি থেকে আর্সেনিক দূর করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নদীর তীর, পাহাড়ি ঢাল ও সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা রক্ষা করতে এই ঘাস ব্যবহার করা সম্ভব। এর শিকড় মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখে এবং প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় বিন্না ছন তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। তারা এই ঘাস সংরক্ষণ করতেন এবং বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতেন। কিন্তু বর্তমানে ঢেউটিনের ব্যবহার বাড়ানোর ফলে বিন্না ছনের কদর কমে গেছে।
প্রবীণ মুরব্বি কপিলনুর মিয়া বলেন, "আগে আমরা ঘরের ছাউনি দিতাম বিন্না ছন দিয়ে, কিন্তু এখন আর এসব ব্যবহৃত হয় না।" তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে তবে ভবিষ্যতে বিন্না ছন সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
এখন সময় এসেছে আমাদের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি করার। স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগকে উচিত হবে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতির সংরক্ষণে উদ্যোগ গ্রহণ করা।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।